নোয়াডা ভিত্তিক কৃষি‑প্রযুক্তি স্টার্ট‑আপ আর্যা.এজি, কৃষকদের জন্য গুদাম ও ঋণ সেবা প্রদান করে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে গ্লোবাল ফসলের দাম হ্রাসের মাঝেও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। কোম্পানি সাম্প্রতিক সিরিজ‑ড রাউন্ডে সম্পূর্ণ ইকুইটি ভিত্তিক তহবিল সংগ্রহ করে প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যার অধিকাংশ মূলধন এবং বাকি অংশ শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে এসেছে।
এই তহবিলের মূল অংশ গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম জিইএফ ক্যাপিটাল পার্টনার্স থেকে এসেছে, যা আর্যা.এজির বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করবে। তহবিল সংগ্রহের পর কোম্পানি তার আর্থিক স্বচ্ছতা ও মুনাফা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাপী কৃষি পণ্যদ্রব্যের মূল্য সাম্প্রতিক মাসে ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায়, কৃষক ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলো মূল্য ওঠানামার ঝুঁকিতে পড়ছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, ইনপুট খরচের বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক বাধা এবং বায়োফুয়েল নীতির পরিবর্তনকে মূল ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবেশে সরাসরি পণ্যদ্রব্যে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোকে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।
আর্যা.এজি এই ঝুঁকি থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে সরাসরি পণ্যদ্রব্যের দামে বাজি না রেখে, গুদামজাত শস্যের ওপর ভিত্তি করে ঋণ ও বাজার সংযোগের মডেল গ্রহণ করেছে। শস্য সংরক্ষণ করে রাখার মাধ্যমে মূল্য হ্রাসের সময়েও কৃষকরা তাদের সম্পদ রক্ষা করতে পারে, আর কোম্পানি শস্যের মূল্যের পরিবর্তন থেকে সৃষ্ট শক শোষণ করতে পারে।
২০১৩ সালে প্রাক্তন আইসিআইসিআই ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা—প্রসন্ন রাও, আনন্দ চন্দ্র এবং চট্টনাথন দেবরাজন—এই উদ্যোগের সূচনা করেন। তাদের লক্ষ্য ছিল কৃষকদের বিক্রয় সময় ও ক্রেতা নির্বাচন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে ফসলের ফসল কাটার পর তৎক্ষণাৎ কম দামে বিক্রি করতে না হয়।
কোম্পানির মূল সেবা হল ফসলের সংগ্রহস্থলকে কৃষকের নিকটবর্তী এলাকায় স্থাপন করা এবং সংরক্ষিত শস্যের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদী ঋণ প্রদান করা। এই পদ্ধতি কৃষকদের তাত্ক্ষণিক নগদ প্রবাহের প্রয়োজন মেটায়, একই সঙ্গে শস্যের গুণগত মান বজায় রাখে।
সংরক্ষিত শস্যের জন্য আর্যা.এজি বিভিন্ন ক্রেতা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে বড় কৃষি সংস্থা, প্রক্রিয়াকরণকারী ও মিলার। ফলে কৃষকরা বাজারের বিভিন্ন দিক থেকে দরদাম করে সর্বোত্তম মূল্য পেতে পারেন, যা ঐতিহ্যবাহী ঋণদাতা বা ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুবিধাজনক।
কোম্পানি দাবি করে যে, প্রতি বছর প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের সমমানের শস্য গুদামজাত করে, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় তিন শতাংশের সমান। এই পরিমাণের গুদামজাতকরণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঋণ সেবার ক্ষেত্রে আর্যা.এজি প্রতি বছর প্রায় এক ও অর্ধ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদান করে, যার ডিফল্ট হার (গ্রস নন‑পারফরমিং অ্যাসেট) শূন্যের কাছাকাছি, ০.৫ শতাংশের নিচে থাকে। এই কম ডিফল্ট হার কোম্পানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট মূল্যায়নের সঠিকতা নির্দেশ করে।
শস্যের দামের সাম্প্রতিক পতন সত্ত্বেও, আর্যা.এজি তার আর্থিক ফলাফলকে মুনাফা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত তহবিল কোম্পানিকে প্রযুক্তি আপগ্রেড, গুদাম সম্প্রসারণ এবং নতুন কৃষক সমিতির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শস্যের দামের অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে কমে যাওয়া সম্ভব, তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন এখনও অনিশ্চিত। আর্যা.এজির মডেল এই অনিশ্চয়তাকে শোষণ করার জন্য যথেষ্ট নমনীয়, তবে গুদাম ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ঋণ পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, আর্যা.এজি বিনিয়োগকারীর আস্থা অর্জন করে এবং মুনাফা বজায় রেখে, ভারতীয় কৃষকদের জন্য আধুনিক গুদাম ও আর্থিক সেবা প্রদান অব্যাহত রাখছে। গ্লোবাল পণ্যের দামের ওঠানামা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি সত্ত্বেও, কোম্পানির স্কেল, কম ডিফল্ট হার এবং বৈচিত্র্যময় ক্রেতা নেটওয়ার্ক তাকে কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



