হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন, তার টয়লেটের কোণায় দৈনিক সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস ছিল এবং কমোডের সামনে পত্রিকাকে রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতেন, এই তথ্য সম্প্রতি প্রকাশিত একটি কলামে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলামটি লিখেছেন দৈনিক ইত্তেফাক ও সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখক, যিনি দেশের বর্তমান বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণমূলক লেখা প্রকাশের পরই একই দিনে সচিবালয়ে গিয়ে একটি সরকারি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সচিবের সঙ্গে আলাপের সময় লেখক জানিয়ে দেন যে তার কলামটি ঐ দিন প্রকাশিত হয়েছে, তবে সচিব জানান যে তিনি আর পত্রিকা পড়েন না এবং তার কাজের সময় পত্রিকা দেখার সুযোগই পান না।
একজন সরকারি সচিবের পত্রিকা না পড়ার কথা শোনা অস্বাভাবিক হলেও, আধুনিক সময়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে মুদ্রিত সংবাদপত্রের ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে, যা বহু বছর আগে থেকে চলমান প্রবণতা।
এই প্রবণতা আমাদের তরুণ বয়সের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে স্পষ্ট হয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের কমন রুমে যখন পত্রিকা সরবরাহ করা হতো, তখন বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী টেবিলে বসে হুমড়ি খেয়ে পত্রিকা পড়ত এবং কখনো কখনো পত্রিকার দখল নিয়ে বিরোধও দেখা দিত।
আজকের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পত্রিকাপাঠের অভ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, তবে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স (BCS) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কিছু ছাত্র-ছাত্রী ভোরে ৪ টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে তাদের ব্যাগ রেখে যায়, যাতে সিট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
পূর্বের প্রজন্মের জন্য সংবাদপত্রের উপসংস্করণগুলো পাঠ্যবইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল; ইত্তেফাকের সময়কালীন বহু কলামিস্টের লেখা না পড়লে যেন দৈনন্দিন তথ্যের অভাব হয়।
ইত্তেফাকের উল্লেখযোগ্য কলামিস্টদের মধ্যে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া (মুসাফির), আহমেদুর রহমান (ভীমরুল), খন্দকার আব্দুল হামিদ (স্পষ্ট ভাষী), আখতার‑উল আলম (লুব্ধক), সংবাদে জহুর হোসেন চৌধুরী (দরবারে জহুর), শহীদুল্লাহ কায়সার (দীপঙ্কর), আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (গাছ পাথর) প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
সারসংক্ষেপে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর টয়লেটের পত্রিকাপাঠের অভ্যাস থেকে শুরু করে আজকের সরকারি কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুদ্রিত সংবাদপত্রের ব্যবহার হ্রাস পর্যন্ত, পত্রিকাপাঠের পরিবর্তন সমাজের সাংস্কৃতিক রূপান্তরের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।



