বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে চীনের সরকার দেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে স্বীকার করেছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনা সরকার সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার এই মন্তব্যকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়ে চীনের অবস্থানকে সম্মানিত করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনা করা দেশের সার্বভৌমত্বের স্বাভাবিক অধিকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে; বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে চীন থেকে প্রাপ্ত সহায়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় দেশের অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে; গত দশকে চীনের বিনিয়োগে বাংলাদেশের শিল্পখাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে চীনের নির্বাচনী মন্তব্যকে স্বাগত জানানো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমর্থন জোগাড়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যদিও সরকার স্পষ্টভাবে কোনো রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রকাশ করেনি।
আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় স্তরে প্রত্যাশিত।
বাংলাদেশের সরকার পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে নির্বাচন বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের বাইরে। এই নীতি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ করে উল্লেখ করেছে যে ভবিষ্যতে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার জন্য বিভিন্ন স্তরে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন প্রকল্পের সূচনা করা হবে।



