যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের ঐতিহাসিক ভবনে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯:৩০ টায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের ফলে ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র ও টিপবইসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিল পুড়ে গিয়েছে। কোনো প্রাণহানি বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঐতিহ্যবাহী নথিপত্রের ক্ষতি ব্যাপক বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় রেজিস্ট্রি অফিসের শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি শার্শা এলাকায় কাজ করলেও যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করেন এবং পূর্বে জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। ঐ রেকর্ড রুমে ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষিত ছিল।
মিলন উল্লেখ করেন, ভবনের দরজা সাধারণত খুব কমই খোলা হয় এবং তিনি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভিতরে প্রবেশ করে তিনি দেখেন অধিকাংশ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কিছু কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হয়ে আছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করবেন।
যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেনও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি জানেন। তিনি জানান, রাতের সময় ভবনের গেট তালা ছিল এবং হিরা নামের নৈশপ্রহরী উপস্থিত ছিলেন না। গেটের বাইরে থেকে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখা যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়।
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গেট তালা থাকলেও তারা তা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে প্রায় ২০ মিনিটের প্রচেষ্টার পর অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, পুরনো ভবনের দুটি রুমে সংরক্ষিত নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও তদন্তের অধীনে, তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী শত শত বছরের ঐতিহাসিক নথি হারিয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও অজানা। বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরে কীভাবে আগুন লেগে থাকতে পারে, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ঐতিহাসিক সংরক্ষণ সংস্থাগুলি নথিপত্রের পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষত গেটের তালা ও অগ্নি সনাক্তকরণ সরঞ্জামের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অধিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপডেট প্রদান করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধের সূত্র পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে নতুন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।



