ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলান ড্রাগ বোটের ডকিং সুবিধায় আক্রমণ সম্পর্কিত সরাসরি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদক পাচার, তেল ও অভিবাসন বিষয়ক আলোচনার জন্য উন্মুক্ততা প্রকাশ করেছেন। মাদুরো রাষ্ট্র টিভিতে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে” কথোপকথন সম্ভব, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলান মাদক বোটের জন্য ব্যবহৃত একটি ডকিং এলাকা আক্রমণ করে ধ্বংস করেছে। ট্রাম্পের মতে, এটি ল্যাটিন আমেরিকায় মাদক পাচার বিরোধী সামরিক অভিযানকে ভূমিতে প্রথম আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করে। তিনি আক্রমণের সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি—সামরিক নাকি সিআইএ—এবং সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ না করে শুধুমাত্র “কিনার পাশে” ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প মিয়ারা-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ডকিং এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে নৌকাগুলোতে মাদকের লোডিং হয়। আমরা সব নৌকা লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং এখন সেই এলাকা ধ্বংস করেছি, যা আর ব্যবহারযোগ্য নয়।” তিনি এই আক্রমণকে মাদক উৎপাদন ও পরিবহনের মূল কেন্দ্র ধ্বংসের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মাদুরো এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে সমুদ্রের ওপর সীমাবদ্ধ বলে জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের মানুষ নিরাপদ এবং শান্তিতে আছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অভিযানকে ভেনেজুয়েলার স্বার্থ রক্ষার জন্য যথেষ্ট বলে উল্লেখ করেন, যদিও ডকিং সুবিধার আক্রমণ সম্পর্কে সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। মাদুরো উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
কোলোম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এই আক্রমণের অবস্থান নিয়ে অনুমান প্রকাশ করে বলেন, “ট্রাম্প মারাকাইবোতে একটি কারখানা বোমাবর্ষণ করেছেন, যেখানে কোকার পেস্ট মিশিয়ে কোকেইন তৈরি করা হয়।” পেট্রোর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মারাকাইবোতে অবস্থিত প্রিমাজল নামের একটি রাসায়নিক বিতরণকারীর গুদামগুলোতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে অনুমান বাড়ায়।
প্রিমাজল কোম্পানির প্রধান কার্লোস এডুয়ার্ডো সিউ এই গুজবকে কঠোরভাবে খারিজ করে জানান, “আমরা কোনো মাদক উৎপাদন বা প্যাকেজিং কাজ করি না; আমাদের ব্যবসা কেবল রাসায়নিক সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ।” সিউ পেট্রোর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, কোম্পানির কোনো নাশক পদার্থের সঙ্গে সংযোগ নেই এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অন্য কোনো ঘটনা হতে পারে।
এই ঘটনাগুলি ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন পর্যায় নির্দেশ করে। মাদুরোর কথোপকথনের ইচ্ছা এবং ট্রাম্পের সামরিক ঘোষণা উভয়ই ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূচনা হতে পারে, বিশেষ করে মাদক পাচার, তেল রপ্তানি ও অভিবাসন নীতি নিয়ে। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা হলে, তা ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক নীতি পুনর্মূল্যায়নের সূচক হতে পারে।



