ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদক পাচার ও তেল বিষয়ক আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থানে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভেনেজুয়েলা তা স্বাগত জানাবে। এই মন্তব্যটি দেশের ওপর বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়।
মাদুরো প্রশ্নের মুখে এড়িয়ে যান, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং সুবিধা সিআইএ পরিচালিত আক্রমণের শিকার হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, সিআইএ একটি ড্রোন ব্যবহার করে ডকিং এলাকায় আঘাত হানায়, যা প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডের ভিতরে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক কার্যক্রম নির্দেশ করে।
মাদুরো উল্লেখ করেন, এই বিষয়টি কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে, তবে তিনি সরাসরি আক্রমণকে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। তিনি একই সঙ্গে তেল ও মানবিক অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
মার্চের শেষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচার সন্দেহভাজন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অপারেশন চালিয়ে আসছে। ত্রিশেরও বেশি আক্রমণ রিপোর্ট হয়েছে, যার ফলে একশেরও বেশি ব্যক্তি নিহত হয়েছে। প্রথম আক্রমণটি ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জলে একটি নৌকায় করা হয়।
সর্বশেষ আক্রমণটি বুধবার ঘটেছে, যেখানে দুইটি জাহাজকে মাদক বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে আঘাত করা হয় এবং পাঁচজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এই আক্রমণটি ড্রোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্র একটি “ডক এলাকা”তে আঘাত হানায়, যা ভেনেজুয়েলীয় মাদক জাহাজের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়। এই আঘাতের ফলে একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন স্ট্রাইক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে এটি ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডের ভিতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত সামরিক হস্তক্ষেপ হবে।
মাদুরো এই আক্রমণ সম্পর্কে মন্তব্যে সতর্কতা বজায় রেখে বলেন, বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাদক, তেল এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংলাপের দরজা খোলা রেখেছেন।
ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, যে তিনি দেশের জেল ও মানসিক হাসপাতালের বন্দীদের মুক্তি দিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনকে উৎসাহিত করছেন। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় নিষিদ্ধ তেল ট্যাঙ্কারগুলোর প্রবেশ-প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি তেল ট্যাঙ্কারকে আটক করেছে, যা ভেনেজুয়েলীয় জলের কাছাকাছি ছিল।
এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাদক পাচার, তেল রপ্তানি ও মানবিক অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয় কীভাবে হবে, তা আগামী সপ্তাহে নির্ধারিত আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।



