বোলিভুডের অভিনেত্রী নুশরত ভারুচ্চা ২০২৬ সালের নতুন বছরের আগের দিন উজ্জয়নের শ্রী মহাকালেশ্বর জ্যোতিলিঙ্গ মন্দিরে উপস্থিত হন। তিনি মন্দিরের ভাস্মা আরতিতে অংশ নেন এবং ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করে প্রার্থনা করেন। এই সফরটি তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
মন্দিরে তার উপস্থিতি স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ভাস্মা আরতি, যা শিবের অশ্রু দিয়ে তৈরি বালি দিয়ে করা হয়, ঐতিহ্যবাহী শিবলিঙ্গের পূজা হিসেবে পরিচিত। নুশরত এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিবের আশীর্বাদ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার উপস্থিতি সামাজিক মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে তিনি মন্দিরের পবিত্র পরিবেশে কিছু সময় কাটান এবং প্রার্থনা করেন। এই সময়ে তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা প্রকাশ করেন। তার এই পদক্ষেপটি ধর্মীয় সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের জাতীয় সভাপতি মাওলানা শাহাবুদ্দিন রজভি বারেলভি, উজ্জয়নের এই সফরের পর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইসলামী নীতির বিরোধী এবং শারিয়াহের অধীনে তা ‘গুরুতর পাপ’ হিসেবে গণ্য হয়।
মাওলানা রজভি তার বিবৃতিতে বলেন, ইসলাম ধর্মে অন্য ধর্মের পূজা করা অনুমোদিত নয় এবং এমন কাজের ফলে শারিয়াহের দৃষ্টিতে অপরাধের শাস্তি প্রযোজ্য। তিনি নুশরতকে তাওবা করার এবং কুলে’আ শুদ্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, ধর্মীয় সীমা অতিক্রম করা ইসলামী শিক্ষার সরাসরি লঙ্ঘন।
এই মন্তব্যের পর তিনি নুশরতকে কোরআনের ক্যালমা পুনরায় উচ্চারণ করে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামী নীতি অনুসারে অন্য ধর্মের রীতি-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নিষিদ্ধ এবং তা থেকে তৌবা করা প্রয়োজন। তার এই বক্তব্য ধর্মীয় সহনশীলতা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বক্তব্যের পর সামাজিক মিডিয়ায় ধর্মীয় সহনশীলতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সীমা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা এই বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করেন। কিছু মন্তব্যকারী নুশরতকে তার ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে সমর্থন করেন, অন্যরা মাওলানার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।
এই ঘটনার সংক্ষিপ্তসারটি একটি টুইটের মাধ্যমে ANI সংবাদ সংস্থা প্রকাশ করে। টুইটে মাওলানা রজভির মন্তব্যের অংশ উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং নুশরত ভারুচ্চার উজ্জয়নের মন্দির সফরের উল্লেখ করা হয়েছে। টুইটটি দ্রুত শেয়ার হয়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অভিনেত্রীর পেশাগত দিক থেকে, নুশরত ভারুচ্চা সম্প্রতি একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। মন্দির সফরের পর তার কাজের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা চালু রয়েছে। তার এই ধর্মীয় সফর এবং পেশাগত কর্মকাণ্ড উভয়ই মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



