গুলশান, ১ জানুয়ারি – জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারে দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও দু’দল একত্রে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও, বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে একটি প্রেস ব্রিফিং দেন, যেখানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে তার রাজনৈতিক অবদান ও সংগ্রামী জীবনকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য দীর্ঘকাল লড়াই করেছেন।
ডা. শফিকুরের মতে, জিয়ার শেষ দিনগুলো জেলে কাটিয়ে তিনি একাকিত্বের মুখোমুখি হয়েছিলেন, এবং সেই সময়ে শাসক দল কর্তৃক অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল। তিনি জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার সময় বিদেশে চিকিৎসার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও সরকার তা স্বীকার করেনি, বরং উপহাসের মুখে দেখা দেয়।
ব্রিটেন থেকে ফিরে এসে জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা তীব্রভাবে অবনতি হয়, ফলে তাকে দেশে চিকিৎসা নিতে হয়। ডা. শফিকুর জিয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তিনি পরকালে সর্বোচ্চ মর্যাদা পান এবং তার আত্মা শান্তি পায়। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান, তার পরিবারের সদস্য, এবং চিকিৎসা কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যাঁরা জিয়ার শেষ দিনগুলোতে সর্বোচ্চ যত্ন প্রদান করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর জিয়ার বিদায়ের সময় উপস্থিত মানুষের সংখ্যা ও তাদের শোকের প্রকাশকে উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়ার শেষ সমাবেশে মানুষের চোখে অশ্রু ঝরেছে এবং জাতি তার প্রতি সম্মান জানিয়েছে, যা তিনি “জাতির পাওনা” বলে বর্ণনা করেন।
ডা. শফিকুরের মতে, জিয়ার এই সম্মানজনক বিদায় দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য একটি উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে, যাতে অন্য রাজনৈতিক নেতারাও জাতির জন্য অবদান রাখলে তেমনই স্বীকৃতি পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের সম্মান জাতির ঐক্য ও সংহতি বাড়াতে সহায়ক।
বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রয়েছে, যেখানে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় ও গণভোটের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান, যেন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন, স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য হয়।
ডা. শফিকুরের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখবে। তিনি বলেন, সকল পক্ষের সহযোগিতা ও সমঝোতা এই লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য।
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর জামায়াতের নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি জানান, জামায়াতের লক্ষ্য দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করা, যা তিনি বিএনপি’র সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করতে চান।
সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর জামায়াতের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে শোকবইতে স্বাক্ষর করেন, যা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এই কাজটি জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপায়।
ডা. শফিকুরের এই বক্তব্যের পর, গুলশানের বিএনপি অফিসে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা তার মন্তব্যের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে যৌথ কাজের জন্য প্রস্তুতি প্রকাশ করেন। তারা একমত যে, দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করা সকলের জন্য উপকারী হবে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. শফিকুরের এই প্রকাশনা জামায়াত ও বিএনপি’র মধ্যে ঐক্যবদ্ধ কাজের সম্ভাবনা নির্দেশ করে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন সমন্বয় সূচনা করতে পারে। তিনি শেষ করে বলেন, সকল রাজনৈতিক শক্তি যেন দেশের মঙ্গলের জন্য একত্রে কাজ করে, যাতে নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে শাসন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়।



