ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালায় এবং অন্তত পঞ্চাশজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে। এই ধরা-ফাঁদে রামাল্লাহ, আল‑বিরেহ, হেব্রন, তুবাস, তুলকারেম, নাবলুস, জেনিন ও পূর্ব জেরুজালেমের কয়েকটি শহর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে পূর্বে কারাবন্দি হিসেবে রেকর্ড থাকা ব্যক্তিরাও ধরা পড়ে। গ্রেপ্তারের মধ্যে একজন নারীও রয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জটিলতা নির্দেশ করে।
ফিলিস্তিনি বন্দি সোসাইটির প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা সাত হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। এই সংখ্যা পূর্বের কয়েক বছরের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা দীর্ঘমেয়াদী দখল নীতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
একই দিনে, পশ্চিম তীরের জেরিকোর পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় এবং তৃতীয় বাড়ির জন্য ধ্বংসের নোটিশ জারি করে। কর্তৃপক্ষ অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেয়, যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযোগকে রাজনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখছে।
স্থানীয় সূত্রের মতে, ইসরায়েলি সেনা ও বুলডোজার ব্যবহার করে ‘এরিয়া সি’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় দুটি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সেখানে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের অধিকারের ওপর প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এই ধরনের নিরাপত্তা অভিযানকে ইসরায়েলি স্বার্থ রক্ষার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে একই সঙ্গে মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত গ্রেপ্তার ও বাড়ি ধ্বংসের ফলে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের একজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক গ্রেপ্তার ও নির্মাণ ধ্বংসের ধারা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জন্য নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অভিযানের পরিসর ও তীব্রতা পূর্বের ২০২৪ সালের গাজা সীমান্তে সংঘটিত সামরিক অপারেশনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। যদিও গাজা অভিযানে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের চিত্র দেখা গিয়েছিল, পশ্চিম তীরে এই গ্রেপ্তার অভিযান মূলত নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ ও রাজনৈতিক দমনমূলক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই ধরণের বৃহৎ গ্রেপ্তার অভিযান পরবর্তী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরদারিতে থাকবে এবং ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি আলোচনার পুনরায় সূচনা বা স্থগিতের সম্ভাবনা উভয়ই বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে, ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের কাছ থেকে এই গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবাদ ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের আহ্বান প্রত্যাশিত।
পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক নোটিশ, এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিবেদন দু’দিনের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। এই নথিগুলো গ্রেপ্তার ও বাড়ি ধ্বংসের বৈধতা, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সামগ্রিকভাবে, পশ্চিম তীরে এই সাম্প্রতিক অভিযান ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত উত্তেজনা পুনরায় তীব্র করে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট থেকে ত্বরিত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া দাবি করে।



