জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার তুষার ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইনের অনুমোদন পেয়েছেন। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনের প্রথম ধাপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তুষারের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) এবং তিনি নিজেকে লেখক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার পেশাগত পরিচয় এবং শিক্ষার স্তর নির্বাচন সংক্রান্ত নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
আর্থিক দিক থেকে তুষার প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকার আয় অর্জন করেন বলে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া, তার নগদ সম্পদ তিন লক্ষ টাকার সমান এবং আয়কর রিটার্নে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে।
হলফনামা অনুসারে তুষারের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে, তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়নি, যা ভবিষ্যতে আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের জন্য তুষার নির্বাচনী ফরম পূরণ করে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী দপ্তরে মনোনয়ন পত্র জমা দেন। তার আবেদনপত্রে উপরে উল্লেখিত শিক্ষাগত ও আর্থিক তথ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গৃহীত মনোনয়ন পত্রের বৈধতা যাচাইয়ের কাজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন পরিচালনা করেন। হোসাইনের অনুমোদন পাওয়ার পর তুষারের নাম নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই আসনে তুষারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে। মঈন খান দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পার্টি ভিত্তিক সমর্থন নিয়ে এই নির্বাচনে প্রবেশ করছেন।
নরসিংদী-২ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দুই দলের প্রার্থী উভয়ই স্থানীয় ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তুষারের লেখক পেশা ও তুলনামূলকভাবে সীমিত আর্থিক সম্পদ তাকে ভোটারদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করতে পারে। অন্যদিকে, মঈন খানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পার্টি সংযোগ তাকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ করে তুলছে।
পরবর্তী ধাপে, উভয় প্রার্থী তাদের প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবে এবং স্থানীয় সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াবে। নির্বাচনের ফলাফল নরসিংদী-২ আসনের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



