সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণ‑পশ্চিমের ক্রানস‑মন্টানা অঞ্চলের লা কনস্টেলেশন বারে বুধবার রাত ১ঃ৩০ টার দিকে বিস্ফোরণ ঘটার পর দ্রুত অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে অন্তত চল্লিশ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত। সরকার এই দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত জাতীয় শোক ঘোষণা করে, যাতে দেশের সব সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
বিস্ফোরণের ফলে বারের ভেতরে ও আশেপাশের কাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। অগ্নি শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধারকর্তা ও চিকিৎসা দলকে অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। স্থানীয় সময়ে জানানো হয়েছে যে, আহতদের মধ্যে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের জন্য নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে জরুরি শল্যচিকিৎসা চালু করা হয়েছে।
বিপর্যয়জনিত শোকের প্রকাশে স্থানীয় বাসিন্দা ও শোকাহত পরিবারের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বারের বাইরে শোকসভা ও প্রার্থনা আয়োজন করে। তারা ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে মৃতদের স্মরণ করেন, যা দৃশ্যত একটি মানবিক সমবেতের প্রতিফলন। একই সময়ে, মন্টানা স্টেশন চার্চে নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও শোকের মিশ্রণ ঘটাতে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শত শত মানুষ অংশ নেন।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি গি পারমেলাঁ শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নববর্ষের ভাষণ বাতিল করেন। তিনি পরে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে দেশের শোককালকে সমর্থন করার আহ্বান জানান এবং দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারকে সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, মৃতদের পরিচয় নির্ধারণ, শোকাহত পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা, এবং আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, সুইস ফেডারেল চ্যান্সেলরিয়েট দ্রুত ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা ও গৃহস্থালি বিষয়ক প্রতিনিধি সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং বাড়াতে এবং সীমানা নিরাপত্তা বাড়াতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোও শোকের সঙ্গে সঙ্গে টেররবাদের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল গোষ্ঠীর দায় স্বীকার করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা ও পর্যটন শিল্পের ওপর এই ধরনের আঘাত আন্তর্জাতিক পর্যটকদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে পারে, তবে দ্রুত শোককাল ও সমর্থনমূলক পদক্ষেপগুলো দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।” একই সময়ে, সুইস ফেডারেল পুলিশ (এফবিআই) ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মানবিক ভুলের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের পর্যটন সংস্থা এই ঘটনার পর পরই আন্তর্জাতিক পর্যটন গাইডে সতর্কতা যোগ করে, যাতে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীরা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে পারে। স্থানীয় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো শোকের সঙ্গে সঙ্গে সেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মী ও সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখার পরিকল্পনা করেছে।
অধিকন্তু, সুইস ফেডারেল সরকার শোকের সময়ে সামাজিক সেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে সক্রিয় করে, যাতে শোকপ্রাপ্ত পরিবার ও আহতদের মানসিক পুনরুদ্ধার সহজ হয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, শোককালীন পরামর্শদাতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।
বৈশ্বিক মিডিয়া এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে এবং সুইস কর্তৃপক্ষের দ্রুত প্রতিক্রিয়াকে প্রশংসা করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলোও শোকের সময়ে মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানায়।
সুইজারল্যান্ডের এই দুর্যোগের পরিণতি দেশীয় নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, ভবিষ্যতে পাবলিক স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা বাড়ানো এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা আপডেট করা হবে। একই সঙ্গে, শোকের সময়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী শোকপ্রথা ও আধুনিক রাষ্ট্রীয় নীতির সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সর্বশেষে, সরকার শোকের শেষ দিন পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখবে এবং শোকের সমাপ্তি ঘোষণার পর পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে। তবে, মৃতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং আহতদের পূর্ণ সেবা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হবে, যা সরকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করে রেখেছে।



