RAM (র্যান্ডম এক্সেস মেমরি) এর দাম অক্টোবর ২০২৫ থেকে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, ফলে স্মার্টফোন, পিসি, স্মার্ট টিভি এবং এমনকি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সহ বহু ডিভাইসের মূল্যে প্রভাব পড়তে পারে। ডেটা সেন্টারগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালানোর জন্য RAM এর চাহিদা তীব্রভাবে বাড়ার ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের খরচে প্রতিফলিত হবে।
উৎপাদনকারীরা সাধারণত ছোটখাটো খরচ বৃদ্ধি নিজেদের মধ্যে শোষণ করে, তবে বড় বৃদ্ধি সরাসরি গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। এই বছরই কিছু নির্মাতা উল্লেখ করেছেন যে, RAM এর খরচে ৫০০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি ঘটেছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দাম নির্ধারণে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একটি কম্পিউটার নির্মাণ কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার জানান, মেমরি বা স্টোরেজ ব্যবহারকারী যেকোনো পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্মাতাদের পাশাপাশি গ্রাহকদেরও এই মূল্য পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে।
RAM হল এমন একটি মেমরি যা ডিভাইস চালু থাকা অবস্থায় কোড ও ডেটা সংরক্ষণ করে, ফলে এটি প্রায় সব ধরনের কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ। উদাহরণস্বরূপ, এই নিবন্ধটি পড়তে আপনার ডিভাইসের RAM কাজ করছে না হলে সম্ভব হতো না।
প্রতিযোগী কম্পিউটার নির্মাণ সাইটের একজন বিশ্লেষক ২০২৬ পর্যন্ত দাম বাড়ার প্রবণতা চলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে বাজার বেশ উচ্ছল ছিল, তবে মেমরির দাম যদি কমে না, তবে ২০২৬ সালে ভোক্তা চাহিদা হ্রাস পেতে পারে।
বিভিন্ন RAM উৎপাদনকারী কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি ভিন্ন রকম। কিছু কোম্পানি বড় পরিমাণে মজুদ রেখে রেখেছে, ফলে তাদের দাম তুলনামূলকভাবে ১.৫ গুণ থেকে ২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, মজুদ কম থাকা কোম্পানিগুলো দাম পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিপ যুদ্ধের লেখক ক্রিস মিলার AI কে RAM মূল্যের বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। AI চালিত ডেটা সেন্টারগুলো ক্রমবর্ধমান মেমরি চাহিদা তৈরি করছে, যা সরবরাহের সীমাবদ্ধতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, গেমিং পিসি এবং এমনকি হাসপাতালের মেডিকেল ইকুইপমেন্টের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু RAM সব ডিভাইসের মূল উপাদান, তাই দাম বাড়লে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পকেটের ওপর চাপ বাড়বে।
উৎপাদনকারীরা এখনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কীভাবে এই খরচ বৃদ্ধি শোষণ করা যাবে। কিছু কোম্পানি সম্ভবত উচ্চ মূল্যের পণ্য লঞ্চের মাধ্যমে মুনাফা বজায় রাখবে, আবার অন্যরা নতুন প্রযুক্তি বা বিকল্প উপাদান অনুসন্ধান করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, RAM এর তীব্র মূল্যবৃদ্ধি ২০২৬ সালে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা ভোক্তা ও শিল্প উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করবে।



