ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গতকাল ঢাকা শহরের ইনস্টিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে এক হাজার নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রেইনি সহকারী অফিসারদের জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এই প্রশিক্ষণ সেশনটি ব্যাংকের মানবসম্পদ শক্তি বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রফেসর এম. জুবাইদুর রহমানের দ্বারা করা হয়। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সমাবেশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
উদ্বোধনী ভাষণে চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান ব্যাংকটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, সেগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই পদ্ধতি ব্যাংকের গতিপথকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং পুনরায় গতি পেতে সহায়তা করেছে।
রহমান তরুণ অফিসারদের ব্যাংকের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে এবং সমগ্র ব্যাংকিং খাতের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা “উন্নত বাংলাদেশ” গঠন এবং আধুনিক ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আজ ব্যাংকে যোগদানকারী কর্মীরা আগামীকাল ব্যাংকিং সেক্টরের নেতৃত্বে থাকবে। সকলকে এই দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় রেখে কঠোর পরিশ্রম করতে এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে উৎসাহিত করেন।
চেয়ারম্যানের বক্তব্যে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য নৈতিক আচরণ, উৎকৃষ্ট সেবা এবং পেশাগত উৎকর্ষতা অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। তিনি নতুন অফিসারদেরকে উদাহরণস্বরূপ আচরণ প্রদর্শন করে গ্রাহকের বিশ্বাস জয় করতে বলেছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান পরিচালনা করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ ওমর ফারুক খান। তিনি সমাবেশের কার্যক্রম তদারকি করে প্রশিক্ষণের সুষ্ঠু সম্পাদন নিশ্চিত করেন।
অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আলতাফ হোসেন এবং মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমর্থনকে প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম. কামাল উদ্দিন জাসিম এবং উপ-ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ, কে.এম. মুনিরুল আলম আল‑মামুন এবং মোঃ মাকসুদুর রহমানও অংশগ্রহণ করেন।
ওরিয়েন্টেশন সেশনে ব্যাংকের কৌশলগত অগ্রাধিকার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সেবা মানদণ্ড এবং ইসলামী আর্থিক নীতিমালা সম্পর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই বিষয়গুলো নতুন কর্মীদের বাস্তবিক জ্ঞান দিয়ে সজ্জিত করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপিত হয়।
একজন বৃহৎ সংখ্যক নতুন কর্মীকে একত্রে প্রশিক্ষণ দিয়ে ইসলামী ব্যাংক তার মানবসম্পদ ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে দক্ষ পেশাজীবী দল গঠন করে ব্যাংকের বৃদ্ধির ধারাকে সমর্থন করা যায়।
বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়নে অব্যাহত বিনিয়োগের সূচক হিসেবে দেখছেন। কঠিন অর্থনৈতিক পরিবেশে দক্ষ কর্মীশক্তি গড়ে তোলা ব্যাংকের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বাড়াবে এবং ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরে তার অবস্থান দৃঢ় করবে।
অবশেষে, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকের মূল্যবোধ ও সেবা মানদণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও বাজার শেয়ার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার প্রস্তুতি নেয়। এই ধরনের সমন্বিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



