মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, যিনি পূর্বে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICAB) এর সভাপতি ছিলেন, ২০২৬ সালের এক বছরের মেয়াদে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (SAFA) এর নতুন সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই পদবী পরিবর্তন অঞ্চলীয় হিসাবরক্ষণ মানদণ্ডের সমন্বয় ও পেশাগত নেটওয়ার্কের শক্তিবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কবিরের পেশাগত যাত্রা চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে গঠিত। তিনি একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্মে এবং একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি বহু কমিটি ও উপকমিটির চেয়ারম্যান বা সমন্বয়কারী হিসেবে ২৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারি দিক থেকে, কবির ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভিনিউ (NBR) এ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) সুবিধাদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। এই ভূমিকা তাকে কর নীতি ও বিরোধ সমাধানের প্রক্রিয়ায় প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা প্রদান করেছে, যা SAFA তে তার নেতৃত্বে নীতি সমন্বয়কে সহজতর করতে পারে।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, তিনি বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-তে পরিচালক হিসেবে সেবা দিয়েছেন এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে প্যানেল উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এই সংযোগগুলো তাকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে হিসাবরক্ষণ পেশার ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তৃত ধারণা দিয়েছে।
SAFA-র সদস্য সংস্থাগুলো হল ১১টি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CMA) পেশাদার ইনস্টিটিউট, যা আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সহ সাতটি দেশের পেশাগত সংস্থাকে একত্রিত করে। আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্ট্যান্টস (IFAC) এর নেটওয়ার্ক পার্টনার হিসেবে SAFA প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি সদস্যকে প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রোবিন কুমার ঝা, যিনি পূর্বে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব নেপাল (ICAN) এর সহ-সভাপতি ছিলেন, তাকে SAFA-র সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তার অভিজ্ঞতা নেপালের হিসাবরক্ষণ পেশার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা এখন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বিত উন্নয়নের জন্য কাজে লাগবে।
নেতৃত্বের এই পরিবর্তন SAFA-র কৌশলগত দিকনির্দেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। কবিরের আর্থিক নীতি ও বিরোধ সমাধানের পটভূমি অঞ্চলীয় মানদণ্ডের সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে, বিশেষ করে কর সংক্রান্ত রিপোর্টিং ও স্বচ্ছতা বাড়াতে।
অধিকন্তু, তার বাণিজ্যিক চেম্বারগুলোর সঙ্গে সংযোগ SAFA-কে ব্যবসা-সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এটি আঞ্চলিক কোম্পানিগুলোর জন্য একক মানদণ্ডের অধীনে আর্থিক প্রতিবেদন সহজ করবে, ফলে ক্রস-বর্ডার বিনিয়োগ ও মার্জার-অ্যাকুইজিশনের প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
তবে কিছু ঝুঁকি অবহেলিত নয়। বিভিন্ন দেশের হিসাবরক্ষণ নিয়মাবলীর পার্থক্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বৈচিত্র্য সমন্বয়কে জটিল করতে পারে। নতুন নেতৃত্বকে এই বৈচিত্র্যকে সমন্বিত করে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, নতুবা সমন্বয় প্রক্রিয়া ধীরগতি পেতে পারে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, কবিরের মেয়াদে SAFA সম্ভবত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রোগ্রাম বাড়াবে, যাতে সদস্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এছাড়া, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্বয়ংক্রিয় হিসাবরক্ষণ সিস্টেমের গ্রহণ বাড়াতে নীতি প্রণয়ন করা হতে পারে।
সংক্ষেপে, হুমায়ূন কবিরের সভাপতি পদে নিয়োগ SAFA-র আঞ্চলিক প্রভাবকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার বিস্তৃত পেশাগত পটভূমি ও নেটওয়ার্কের ব্যবহার করে হিসাবরক্ষণ মানদণ্ডের সমন্বয়, ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। তবে সফলতা অর্জনের জন্য নিয়ন্ত্রক পার্থক্য ও রাজনৈতিক পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা অপরিহার্য।



