মোবাইল ফোন বিক্রেতা সমিতি ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’ (এমবিসিবি) শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, দেশের সব মোবাইল শপ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপটি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর বিরোধে নেওয়া হয়, যা শিল্পের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
এমবিসিবি বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনইআইআর চালুর ফলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করা একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও সরকারী দপ্তরগুলো থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও এনইআইআর সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করেছে। এই ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে মূল অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মোবাইল ফোন শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখে; হাজার হাজার বিক্রেতা এবং লক্ষাধিক কর্মীর জীবিকা এই সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। তাই একতরফাভাবে নতুন নিয়ম আরোপ করা বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া শিল্পের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরূপ বলে সমিতি সতর্ক করেছে।
সমিতি দাবি করে, এনইআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে সকল স্টেকহোল্ডারের মতামত ও চাহিদা বিবেচনা না করা হলে তা স্বীকৃত হবে না। তাই তারা শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ হিসেবে সারাদেশে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবাদের মূল লক্ষ্য হল মোবাইল বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের প্রভাব কমিয়ে আনা এবং কিছু বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য পুরো বাজারকে জিম্মি করার প্রচেষ্টা বন্ধ করা। সমিতি এই ধরনের অনিয়মকে আর সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
প্রতিবাদের পূর্বে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল বিক্রেতারা বিটিআরসি ভবনের চারপাশে ঘেরাও করে এনইআইআর বিরোধে প্রতিবাদ জানায়। সেই সময়ে কিছু ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্রেতা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর, সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং ২৮ জন প্রতিবাদকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পরেও সমিতি তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
দোকান বন্ধের ফলে বিক্রেতাদের বিক্রয় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। দৈনন্দিন বিক্রয়, স্টক রিফিল এবং সাপ্লাই চেইনের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।
ভোক্তাদের দিকেও প্রভাব পড়বে; মোবাইল ডিভাইসের ক্রয় ও সেবা পেতে বাধা সৃষ্টি হবে, ফলে চাহিদা মেটাতে দেরি এবং সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় বিক্রয় কেন্দ্রের বন্ধ থাকা সরাসরি গ্রাহক অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করবে।
অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই শিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারী সংস্থার আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি করা জরুরি। নিয়ন্ত্রক নীতির স্পষ্টতা ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধের ঝুঁকি বজায় থাকবে, যা দেশের টেলিকম বাজারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।



