জন মুলরুনি, ৬৭ বছর বয়সী কমেডিয়ান ও লেট‑নাইট টেলিভিশন হোস্ট, সোমবার কক্স্যাকি, নিউ ইয়র্কের নিজের বাড়িতে নিঃশব্দে মারা যান। তার মৃত্যু স্থানীয় সংবাদপত্রে জানানো হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
মুলরুনি ২৭ আগস্ট ১৯৫৮-এ ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ফ্ল্যাটবাশে বড় হন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি একমধ্যের সন্তান ছিলেন এবং ব্রুকলিন টেকনিক্যাল হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। স্কুলের সময় তিনি গোল্ডেন গ্লাভসের আমেচার বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তবে পরে কমেডিতে তার আগ্রহ বাড়ে।
কমেডি ক্যারিয়ার তার শুরুর দশকে শিপসহেড বে’র পিপস নাইটক্লাবে শুরু হয়, যেখানে একই সময়ে অ্যান্ড্রু ডাইস ক্লে-ও মঞ্চে উঠেছিলেন। পিপসের মঞ্চে তার পারফরম্যান্স তাকে সেলিব্রিটি ট্যালেন্ট শো ‘স্টার সার্চ’‑এ অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, যা পরবর্তীতে লেখক দলের দরজা খুলে দেয়।
১৯৯০-এর দশকে তিনি ফক্সের ‘কমিক স্ট্রিপ লাইভ’ শোয়ের হোস্ট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, যা লেট‑নাইট কমেডি শো হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। একই সময়ে তিনি ইম্প্রভ, দ্য লাফ ফ্যাক্টরি এবং ড্যাঞ্জারফিল্ডসের মতো বিখ্যাত স্ট্যান্ড‑আপ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত পারফর্ম করেন এবং দ্রুতই তার ইমপ্রোভাইজেশন ও দর্শকের সঙ্গে সংযোগের দক্ষতার জন্য প্রশংসিত হন।
টেলিভিশন স্ক্রিনে মুলরুনি HBO ও শোটাইমে স্ট্যান্ড‑আপ রুটিন উপস্থাপন করেন এবং পিবিএসের ‘কমেডি টুনাইট’ শোতে উপস্থিত ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ফক্সের ‘দ্য লেট শো’ থেকে জোয়ান রিভার্স বাদ পড়ার পর তিনি এবং অন্যান্য কমেডিয়ান সাময়িকভাবে হোস্টিং দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে লেট‑নাইট হোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল।
সিবিএসের ‘দ্য প্যাট স্যাজাক শো’ তেও তিনি গেস্ট হোস্ট হিসেবে কাজ করেন, যা তার টিভি হোস্টিং পোর্টফোলিওকে সমৃদ্ধ করে। তার অভিনয় ক্যারিয়ারেও কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে; তিনি ‘রাইডার পি.আই.’, ‘১স্ট অ্যান্ড টেন’, ‘এলেন’, ‘মিডটাউন নর্থ’, ‘দ্য গুড লাইফ’ এবং ‘হার্ডবল’সহ বিভিন্ন টিভি সিরিজে গেস্ট রোল পালন করেছেন। ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘গ্রেট বোলস অফ ফায়ার’ তেও তিনি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন।
পরবর্তী বছরগুলোতে মুলরুনি রেডিও জগতে প্রবেশ করেন এবং নিউ ইয়র্ক সিটি, ক্লিভল্যান্ড এবং অ্যালবানি সহ বেশ কয়েকটি শহরে সকালের ও বিকালের প্রোগ্রাম হোস্ট করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি iHeartRadio নেটওয়ার্কের অংশ হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শোনারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। তার স্বাভাবিক কথোপকথন শৈলী ও হাস্যরসিক মন্তব্য রেডিও শোনারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
মুলরুনি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য বিদেশে পারফরম্যান্স দিয়েছেন এবং তিনি এসব শোকে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। সৈন্যদের জন্য হাস্যরসের মাধ্যমে মনোবল বাড়াতে তিনি যে অবদান রেখেছেন, তা তার পরিবার ও সহকর্মীরা উচ্চ প্রশংসা করে।
মৃত্যুর সময় তিনি কক্স্যাকি, আপস্টেট নিউ ইয়র্কের একটি ছোট শহরে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি এবং পরিবার গোপনীয়তা বজায় রাখতে অনুরোধ করেছে।
সহকর্মী কমেডিয়ান অ্যান্ড্রু ডাইস ক্লে, যিনি মুলরুনির সঙ্গে পিপস নাইটক্লাবে কাজ করেছেন, ফেসবুকে একটি সমবেদনা পোস্টে তার অবিচল প্রচেষ্টা ও হাস্যরসের প্রতি সম্মান জানিয়ে লিখেছেন যে মুলরুনি “একজন মহান, মহান কমেডিয়ান” ছিলেন এবং তার কাজের মাধ্যমে অনেকের অনুপ্রেরণা হয়েছে।
জন মুলরুনি স্ট্যান্ড‑আপ মঞ্চ, টেলিভিশন স্টুডিও, চলচ্চিত্র সেট এবং রেডিও এয়ারওয়েভে সমানভাবে ছাপ ফেলেছেন, যা তাকে আমেরিকান বিনোদন জগতে বহুমুখী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে। তার বিদায়ের পরও তার হাস্যরস ও পেশাদারিত্বের স্মৃতি দর্শক, শ্রোতা ও সহকর্মীদের মধ্যে বেঁচে থাকবে।



