20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকনববর্ষের প্রথম দিন রাশিয়া-ইউক্রেন পারস্পরিক হামলা ও বেসামরিক ক্ষতি নিয়ে অভিযোগ

নববর্ষের প্রথম দিন রাশিয়া-ইউক্রেন পারস্পরিক হামলা ও বেসামরিক ক্ষতি নিয়ে অভিযোগ

১ জানুয়ারি, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ তুলেছে। রাশিয়া দাবি করে যে, খেরসনের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অংশে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি হোটেল ও ক্যাফে আঘাত করে শিশুসহ অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং ৫০ জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি টেলিগ্রাম বার্তায় জানিয়েছেন যে, রাশিয়া নববর্ষের রাতে ২০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে দেশের সাতটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, হোটেল ও ক্যাফে আক্রমণে প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সূত্রে বলা হয়েছে, এই হামলা ‘সুপরিকল্পিত’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সময়ে, ইউক্রেনের খেরসন গভর্নর ওলেক্সান্দর প্রোকুদিন জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার আক্রমণে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং ৮৭ বছর বয়সী এক বয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার এই আক্রমণকে নতুন বছরের রাতের পরিকল্পিত যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করে, এবং উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের বৃহৎ ড্রোন আক্রমণ দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপগুলো শান্তি আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্য বহন করে।

মস্কোর দিক থেকে, রাশিয়া দাবি করে যে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা খেরসনের উপকূলীয় গ্রাম খোরলিতে ঘটেছে, যেখানে নববর্ষ উদযাপন চলছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মুখপাত্র বলেন, ড্রোনগুলো হোটেল ও ক্যাফে আঘাত করে বহু মানুষকে জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং এই হামলা ‘সুপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে এই পারস্পরিক অভিযোগের পটভূমিতে চলমান চার বছরের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তত্ত্বাবধানে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই দাবি করে যে, অপর পক্ষের আক্রমণ শান্তি আলোচনার ফলাফলকে বদলে দিতে চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পারস্পরিক দোষারোপ যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আলোচনার টেবিলে বিশ্বাসের ফাঁক বাড়াতে পারে।

গত সোমবার, ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ইউক্রেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে। যদিও ইউক্রেন এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই দাবিকে অস্বীকার করেছে, রাশিয়া বলেছে যে, প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ করা হবে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সাম্প্রতিক উন্নয়নের দিকে ঘুরে গেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নববর্ষের প্রথম দিনে উভয় পক্ষের আক্রমণ এবং দোষারোপের ধারাবাহিকতা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা এবং শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতাকে প্রকাশ করে। তারা আরও যোগ করেন, ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে, পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার পরবর্তী রাউন্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে সশস্ত্র সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আলোচনার পথে অগ্রসর হতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

যদি এই পারস্পরিক অভিযোগগুলো সমাধান না হয়, তবে বেসামরিক জনগণের উপর প্রভাব বাড়তে পারে এবং মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়তে পারে। তাই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপ এবং দ্বিপাক্ষিক সংলাপের পুনরায় সূচনা এই সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments