18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানে লর্ডেগান ও কুদাশ্টে সংঘর্ষে দুইজন নিহত, ১৩জন নিরাপত্তা কর্মী আহত

ইরানে লর্ডেগান ও কুদাশ্টে সংঘর্ষে দুইজন নিহত, ১৩জন নিরাপত্তা কর্মী আহত

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে লর্ডেগান শহরে জীবনের খরচ বাড়ার প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যা মুদ্রা পতনের ফলে তীব্রতর হওয়া প্রতিবাদ আন্দোলনের পঞ্চম দিন। প্রতিবাদকারীরা উচ্চমূল্যের খাবার ও জ্বালানির সমস্যার সমাধান চায়, আর সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের সংকেত দিয়েছে।

ফারস নিউজ এজেন্সি এবং মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও উভয়ই লর্ডেগানের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু জানিয়েছে। ফারসের সূত্রে দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে মৃত ব্যক্তিরা প্রতিবাদকারী না নিরাপত্তা কর্মী তা স্পষ্ট করা হয়নি। হেংগাও এই দুইজনকে প্রতিবাদকারী হিসেবে চিহ্নিত করে, তাদের নাম আহমদ জালিল ও সজাদ ভালামানেশ উল্লেখ করেছে।

লর্ডেগানের পাশাপাশি লোরেস্তান প্রদেশের কুদাশ্টে আরেকটি সংঘর্ষে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সদস্য নিহত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের সময় ওই ব্যক্তি গুলি করে মারা যায়। প্রতিবাদকারীরা দাবি করে, শিহরণে গুলি করা ব্যক্তি তাদেরই একজন এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাকে গুলি করে মেরে ফেলেছে।

কুদাশ্টে ঘটনার ফলে ১৩জন পুলিশ ও বাসিজ সদস্য পাথর নিক্ষেপে আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কিছু গুরুতর আঘাতের শিকার, যা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। নিরাপত্তা কর্মীরা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর পাশাপাশি গাড়ি পুড়িয়ে তোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদ তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন শহরে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। সরকার শীতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এনার্জি সঞ্চয়ের নামে ব্যাংক ছুটি ঘোষণা করেছে, তবে অনেক নাগরিক এটিকে প্রতিবাদ দমন করার কৌশল হিসেবে দেখছে। বন্ধের ফলে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা বাড়িতে আটকে রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

প্রতিবাদের মূল কারণ টেহরানের দোকানদারদের মধ্যে মুদ্রা পতনের ফলে রিয়ালের মান হ্রাস এবং ডলারের তুলনায় ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস। রিয়াল ডলারের তুলনায় দ্রুত অবমূল্যায়ন হওয়ায় বাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এই আর্থিক সংকটের ফলে জনগণ সরকারের নীতি ও সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করছে।

প্রতিবাদকারীরা সর্বোচ্চ নেতা ও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি তুলছে, কিছু অংশে রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও উঠে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও সহিংসতা বা বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সরকারের এনার্জি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টা এবং প্রতিবাদকারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দাবির মধ্যে সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি পরিবর্তন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments