ঢাকা, ২ জানুয়ারি ২০২৬ – দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের সরকারী মন্তব্যের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক সাড়া জানিয়ে, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার চীনের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আশা করছে।
বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের সরকারী সংস্থা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে এবং ফলাফলকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার দ্রুতই কূটনৈতিক নোটে চীনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বীকৃতি জানিয়ে, দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে সরকার পরিচালনা করছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু করার কথা পূর্বে জানিয়েছেন। তার নেতৃত্বে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার, স্বাধীন পর্যবেক্ষক দলের গঠন এবং ভোটার তালিকার আপডেট অন্তর্ভুক্ত। চীনের ইতিবাচক মন্তব্যকে এই উদ্যোগের একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশকারী সংস্থার মুখপাত্রের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সুসংহত নির্বাচন প্রক্রিয়া অপরিহার্য। তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছি।” এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক নোটে চীনের সমর্থনকে “দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বিশ্লেষণ করছেন, চীনের ইতিবাচক মন্তব্যের ফলে দু’দেশের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে। চীন বর্তমানে বাংলাদেশকে তার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য করে, এবং দু’দেশের অবকাঠামো প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ছে। নির্বাচনের পর ফলাফল যদি স্থিতিশীল হয়, তবে চীনের বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, যার চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে তিনি চীনের মন্তব্যের প্রতি কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। তার দল নির্বাচনের ফলাফলকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করা যায়।
বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল গঠন করেছে, যার মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। এই দলগুলো নির্বাচনের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। চীনের মন্তব্যকে এই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা প্রদান করা হবে, যাতে ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হয়।
বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, চীনের মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের প্রতি আরও ইতিবাচক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেছেন, “চীন আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছে, তা আমাদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়াবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকার নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে অর্থনৈতিক নীতি ও অবকাঠামো প্রকল্পে ত্বরান্বিত কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, চীনের দূতাবাসের প্রতিনিধি একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি জারি করে, যেখানে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত, এবং আমরা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।” এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক নোটে চীনের শুভেচ্ছাকে “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি চীনের ইতিবাচক মন্তব্য এবং বাংলাদেশের তাৎপর্যপূর্ণ সাড়া দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নির্বাচনের ফলাফল যদি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ পায়, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান উভয়ই উন্নত করবে। ভবিষ্যতে দু’দেশের সহযোগিতা কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।



