মো. আরশাদুর রউফকে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু মো. আসাদুজ্জামান তার পদত্যাগের পর সিটিতে শূন্যতা তৈরি করেন। নিযুক্তি বৃহস্পতিবার সরকারী গেজেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এই পরিবর্তন দেশের শীর্ষ আইনগত পদে নতুন দায়িত্বের সূচনা নির্দেশ করে।
মো. আসাদুজ্জামান ২৭ ডিসেম্বর তার পদত্যাগের চিঠি স্বাক্ষর করেন এবং প্রেসিডেন্টের কাছে তা জমা দেন। তিনি তার পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা উল্লেখ করেন।
প্রেসিডেন্টের অফিস এই পদত্যাগ গ্রহণের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে। গেজেটের দুটি পৃথক নোটিফিকেশন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়, যা নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলের শপথ গ্রহণের আইনি ভিত্তি স্থাপন করে।
গেজেট নোটিফিকেশনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মো. আরশাদুর রউফকে আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়োগের ফলে তিনি দেশের সর্বোচ্চ আইনগত পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মো. আসাদুজ্জামান তার পদত্যাগের পর জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপি থেকে ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি পূর্বে আইনগত ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তবে এখন তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসছেন।
ঝিনাইদহ-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিএনপি এই আসনে তার প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে।
মো. আরশাদুর রউফ পূর্বে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে কাজ করেছেন এবং বহু উচ্চপ্রোফাইল মামলায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতা তাকে এই শীর্ষ পদে উপযুক্ত করে তুলেছে।
আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রউফের দায়িত্বে থাকবে সরকারী নীতি ও আইনগত বিষয়ের পরামর্শ প্রদান, আদালতে সরকারের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন এবং আইন সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ।
বিএনপি পক্ষ থেকে রউফের নিযুক্তি সম্পর্কে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে দলটি আসাদুজ্জামানের নির্বাচনী প্রচারণা সমর্থন করে চলেছে। পার্টির বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা দেশের আইনি পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের প্রতিনিধিরা রউফের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বকে দেশের আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার মূল উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল দ্রুত কাজের গতি গ্রহণ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন।
একই সময়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা দৃঢ় উপস্থিতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এই সমাবেশ দেশের ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রতীক।
খালেদা জিয়ার দাফন ও ড. ইউনূসের মন্তব্যের পাশাপাশি রউফের নিযুক্তি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিমণ্ডলে একাধিক পরিবর্তনের সূচনা করে। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলকে দেশের আইনি নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
অবশেষে, রউফের শপথ গ্রহণ ও আসাদুজ্জামানের নির্বাচনী পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় এনে দেবে। উভয় পক্ষের কার্যক্রমের পরিণতি পরবর্তী সময়ে দেশের আইনি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলবে।



