টনি ডোকুপিল ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সিবিএস ইভনিং নিউজের প্রধান এ্যাঙ্কর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি এই ঘোষণার সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা ও তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ভিডিওতে তিনি দর্শকদের প্রথমে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঐতিহ্যবাহী মিডিয়ার ওপর জনগণের বিশ্বাস হ্রাস পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সংবাদ সংস্থা এখন রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এই অবস্থা পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে।
সিবিএস নিউজের প্রধান সম্পাদক বারি ওয়াইস সম্প্রতি কর্মীদের জানিয়েছেন যে, বিশ্বাসের ঘাটতি সংস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, দর্শকের আস্থা পুনরুদ্ধারই এখন অগ্রাধিকার। ডোকুপিলের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এই নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ডোকুপিলের ভিডিওতে তিনি মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি ডেভিড এলিসন, প্যারামাউন্টের নেতৃত্ব দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও কর্পোরেট স্বার্থ থেকে নিজেকে আলাদা রাখার কথা বলেন। তার মতে, সংবাদকে কোনো বাহ্যিক চাপের অধীন না করে সত্যিকারের তথ্য প্রদান করা উচিত।
দর্শকদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি সহজ ও স্পষ্ট: “আপনিই প্রথমে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজ্ঞাপনদাতা, রাজনীতিবিদ বা কর্পোরেট মালিকের স্বার্থে সংবাদকে বাঁকানো উচিত নয়। তিনি নিজেকে “আপনার জন্য রিপোর্ট করছি” বলে পরিচয় দেন, যা তার স্বতন্ত্রতা ও দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।
জনমত গঠনকারী বিষয়গুলো নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরাক যুদ্ধ, হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল স্ক্যান্ডাল, কোভিড-১৯ লকডাউন এবং হান্টার বায়ডেনের ল্যাপটপের মতো ঘটনাগুলোতে জনগণের ক্রোধ বাড়ছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়ের কভারেজ প্রায়শই রাজনৈতিক ও একাডেমিক এলিটের দৃষ্টিকোণ থেকে হয়, সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে উপেক্ষা করে।
ডোকুপিলের মতে, সংবাদকে বিজ্ঞাপনদাতা বা কর্পোরেট মালিকের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়, এমনকি সিবিএসের নিজস্ব মালিকদের স্বার্থও নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ হল জনগণের জন্য সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য সরবরাহ করা, স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত।
সিবিএস ইভনিং নিউজ দীর্ঘদিন ধরে এনবিসি নাইটলি নিউজ ও এবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজের পিছনে তৃতীয় স্থানে আটকে আছে। রেটিংয়ে এই পার্থক্য দর্শকদের আগ্রহের হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত। ডোকুপিলের দায়িত্বে এই অবস্থান পরিবর্তন করা অন্যতম লক্ষ্য।
দর্শকসংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। অনেকেই এখনই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খবর অনুসরণ করেন, টেলিভিশন সংবাদকে পুরোনো ধরা হয়। ডোকুপিলের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
ডোকুপিলের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো বড়। তিনি কেবল সংবাদ উপস্থাপনই নয়, দর্শকের আস্থা পুনর্গঠনেও কাজ করবেন। তার লক্ষ্য হল সিবিএসকে আবারও দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমের শীর্ষে ফিরিয়ে আনা।
প্রথম সম্প্রচারে তিনি দর্শকদের সরাসরি কথা দিয়ে জানান দেবেন যে, তিনি কীভাবে সংবাদকে নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র রাখবেন। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সিবিএসের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



