বিএফএল টি২০ ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স বৃহস্পতিবার সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উত্তেজনাপূর্ণ সুপার ওভার জয় অর্জন করে। দুই দলই শেষ ওভারে সমান স্কোরে শেষ করে, ফলে প্রথমবারের মতো সুপার ওভারের দরজা খুলে যায়। শেষ পর্যন্ত রাইডার্সের স্কোর অতিক্রম করে রাজশাহী ৬ পয়েন্টে শীর্ষে উঠে।
রিপন মন্ডল এই জয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তিনি শেষ ওভারে মাত্র ছয় রানই দিলেন, যখন রংপুরকে সাত রান দরকার ছিল এবং সাতটি উইকেট বাকি ছিল। একই রকম শৃঙ্খলা সুপার ওভারে বজায় রেখে আবার ছয় রানই conced করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন।
বাটিং দিক থেকে তানজিদ হাসান তামিমের আক্রমণাত্মক খেলা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর চারটি, দুইটি এবং আরেকটি চারের সংমিশ্রণে গুরুত্বপূর্ণ রানের সঞ্চার করেন, যা সুপার ওভারের শেষ মুহূর্তে বিজয় নিশ্চিত করে। তামিমের এই আক্রমণাত্মক শটগুলো রাইডার্সের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়।
এই জয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে চারটি ম্যাচে ছয় পয়েন্ট এনে দেয় এবং টেবিলের শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখে। দলটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে লিগে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যা পরবর্তী ম্যাচে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।
প্রথমার্ধে রংপুর রাইডার্সের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। ড্যাভিড মালান এবং তাওহিদ হ্রিদয় ১০০ রানের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যার ফলে রাইডার্সের স্কোর দ্রুত বাড়ে। মালান ৫০ বলের মধ্যে ৬৩ রান করে অপরাজিত রয়ে গেছেন, আর হ্রিদয় ৩৯ বলে ৫৩ রান যোগ করেন।
এই পার্টনারশিপের ফলে রাইডার্স ১৯ ওভারে ১৫৩ রান করে তিন উইকেট নষ্ট করে। স্কোরবোর্ডে রাইডার্সের দ্রুত অগ্রগতি দেখা যায়, যখন তারা ১০০ রানের পরেও শীর্ষে ছিল। তবে শেষের দিকে রাইডার্সের গতি ধীর হয়ে যায়, যা রাজশাহীর ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করে।
শেষ ওভারটি নাটকীয় মোড় নেয় যখন রিপন মন্ডল প্রথম তিন ওভারে ৩৭ রান conced করেন, তবে চতুরতা দেখিয়ে খুশদিল শাহকে প্রথম বলেই আউট করেন। এরপর নুরুল হাসান সোয়ানকে তিন ডেলিভারিতে ছয় রান দিতে বাধ্য করেন। শেষ দুই বলে এক রান দরকারে রিপন আবার সোয়ানকে আউট করেন, আর শেষ বলেই মাহমুদুল্লাহ রানআউট হন, যা সুপার ওভারের দরজা খুলে দেয়।
সুপার ওভারে রিপনের ধারাবাহিকতা আবারও রাজশাহীর পক্ষে কাজ করে। তিনি মাত্র ছয় রানই দেন, ফলে রাইডার্সের অতিরিক্ত স্কোর অর্জন অসম্ভব হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের স্কোর রাইডার্সের চেয়ে বেশি হয়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং ইনিংসের সূচনা শক্তিশালী ছিল। ১৩তম ওভারে ১০৫ রান ছাড়া এক উইকেট নষ্ট করে দলটি ভাল অবস্থানে পৌঁছায়। সাইবাজাদা ফারহান এবং নাজমুল হোসেন শান্তোর দ্বিতীয় উইকেটের জন্য ৯৩ রানের স্থিতিশীল পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। শান্তোর ৩০ বলে ৪১ রান রানের পর রানআউট হওয়ায় দলটি সামান্য ধীর হয়ে যায়।
ফারহান ৪৬ বলে ৬৫ রান করে টপ স্কোরার হন, যার মধ্যে আটটি চার এবং দুইটি ছয় রয়েছে। তার আক্রমণাত্মক খেলা দলের মোট ১৫৯ রানে অবদান রাখে, যদিও বাকি ব্যাটসম্যানদের সমর্থন কম ছিল। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী ১৫৯/৮ স্কোরে শেষ করে, যা সুপার ওভারের জন্য যথেষ্ট ছিল।
রাইডার্সের বলিং দিক থেকে ফাহিম আশরাফ আবারও শানিত হন, ৪৩ রান conced করে তিনটি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ বলিং পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলের সামগ্রিক রেকর্ডে অবদান রাখেন। যদিও রাইডার্সের ব্যাটিং শেষ ওভারে ধীর হয়ে যায়, তবে তাদের শুরুর শক্তি এবং পার্টনারশিপের গতি প্রশংসনীয়।



