ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬ – জয়শঙ্করের এই সপ্তাহের ঢাকা সফরকে রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরতে না বলার জন্য পররাষ্ট্র বিভাগের উপদেষ্টা স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সফরকে কোনো দলীয় বা নির্বাচনী আলোচনার অংশে রূপান্তর করা উচিত নয়।
উপদেষ্টা বলেন, জয়শঙ্করের সফরটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভ্রমণকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের সরঞ্জাম বানানো কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে দেশের ইমেজকে দুর্বল করে তুলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, জয়শঙ্করের সফরে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ-চীন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক পার্টনারদের সঙ্গে কূটনৈতিক মিটিং নির্ধারিত ছিল। মিটিংগুলোতে বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। উপদেষ্টা জোর দেন, এসব আলোচনার ফলাফল দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অবস্থাকে শক্তিশালী করবে, তাই এগুলোকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত।
এই মন্তব্যের পর, বিরোধী দলগুলোর কিছু নেতারা সফরের রাজনৈতিক ব্যবহারকে সমর্থন করার ইঙ্গিত দেন। তারা দাবি করেন, জয়শঙ্করের সফর দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে এবং তা নির্বাচনকালে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে উপদেষ্টা আবারও পুনরায় উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক সফরকে নির্বাচনী মঞ্চে আনা দেশের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সহযোগিতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করবে।
উপদেষ্টা অতিরিক্তভাবে বলেন, সরকারকে কূটনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই নীতিমালা মেনে চলতে আহ্বান জানাতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা করা উচিত, যাতে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির স্বার্থে তা ব্যবহার না হয়।
বিশ্লেষকরা উপদেষ্টার মন্তব্যকে দেশের কূটনৈতিক নীতি রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক সফরকে রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ব্যবহার করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। একই সঙ্গে, সরকারকে এই নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে দেশের কূটনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে।
জয়শঙ্করের সফর শেষ হওয়ার পর, কূটনৈতিক মিটিংগুলো থেকে প্রাপ্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারকে উপস্থাপন করা হবে। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, রিপোর্টে উল্লিখিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হবে।
সফরের সময় জয়শঙ্কর বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন, যার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, এসব আলোচনার ফলাফল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং তা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
পররাষ্ট্র বিভাগের এই সতর্কতা দেশের কূটনৈতিক নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে সঠিক সীমানা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা শেষ করে বলেন, কূটনৈতিক সফরকে রাজনৈতিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা না শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বজায় রাখবে, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা দেবে।



