জামায়াত-ই-ইসলামি পার্টির বগুড়া-৪ (কাহালু‑নন্দিগ্রাম) প্রার্থী মোঃ মোস্তফা ফয়সাল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচনী প্রার্থীর সম্পদ ঘোষণাপত্র (অ্যাফিডেভিট) দাখিল করেন। এতে তিনি বাংলাদেশের কোনো আয় না থাকায়, কেবল বিদেশি উৎস থেকে বার্ষিক ৪.৩৯ লাখ টাকা আয় পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে মোট সম্পদ ১.১০ কোটি টাকার বেশি বলে প্রকাশিত হয়েছে।
ফয়সালের অ্যাফিডেভিটে দেখা যায়, তিনি বিদেশে কাজের মাধ্যমে অর্জিত ৪.৩৯ লাখ টাকার বার্ষিক আয় ছাড়া দেশের কোনো আয়সূত্র উল্লেখ করেননি। এই আয় মূলত শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন বা পরামর্শমূলক কাজের মধ্যে পড়ে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।
অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে ফয়সাল এক দশমিক জমিতে নির্মিত একটি ফ্ল্যাটের মালিক এবং তুরস্কে উপহারস্বরূপ প্রাপ্ত একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৬৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন। উভয় সম্পদের সম্মিলিত বর্তমান মূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।
এছাড়া তিনি ০.৩৭ দশমিক অ‑কৃষি জমির যৌথ মালিকানা দাবি করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা। এই জমি তার ব্যক্তিগত সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
ফয়সালের স্ত্রী তাসলিমা জাহান সুরাইয়া বগুড়া শহরের সেউজগরি এলাকায় দুইটি ফ্ল্যাটের মালিক, যেগুলোও উপহারে প্রাপ্ত এবং মোট মূল্য ৫০ লাখ টাকা।
চলনশীল সম্পদের তালিকায় ফয়সাল ৭.৫০ লাখ টাকা নগদ, ৩ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং ১ লাখ টাকা মূল্যের ফার্নিচার উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রীর স্বর্ণের পরিমাণ ৫০ ভোরি, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।
উল্লেখিত সব সম্পদ মিলিয়ে ফয়সালের মোট অস্থাবর ও চলনশীল সম্পদ ১.১০ কোটি টাকার বেশি, আর তার স্ত্রীর সম্পদ ১.৪৫ কোটি টাকার কাছাকাছি।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ফয়সাল রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
আইনি দিক থেকে ২০১২ সালে ঢাকার মেট্রোপলিটন কোর্টে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ২০২৫ সালে রায়ে মুক্তি পেয়েছে।
২০২৫‑২৬ করবছরের জন্য তার আয়কর রিটার্নে মোট সম্পদ ৮৭.৬৯ লাখ টাকা এবং বার্ষিক আয় ৪.৩৯ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
ফয়সাল জানান, তিনি প্রায় দশ বছর তুরস্কে বসবাস করে সেখানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, যা তার আয়ের প্রধান উৎস।
এই সম্পদ ঘোষণাপত্রের প্রকাশের পর বগুড়া-৪ আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে, এবং ভোটারদের কাছে প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও বিদেশি আয়ের উৎস সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের গুরুত্ব বাড়ছে।



