নতুন বছরের প্রথম দিনেই ক্রীড়া ক্যালেন্ডার উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে ২০২৬কে খেলোয়াড়দের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বের বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে, আর সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হবে ২০২৬ সালের FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল।
বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একত্রে কাজ করবে, যা প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ একসঙ্গে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করবে। এই সংস্করণে ৪২টি দল অংশ নেবে, যা ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র একা ২৪টি দলের সঙ্গে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
এই টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল ইভেন্ট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে এটিকে বিশেষ আকর্ষণ দেওয়া হয়েছে, ফলে মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, মোহাম্মদ সালাহ ও নেইমার মতো শীর্ষ তারকারা শেষবারের মতো একসঙ্গে মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্প্যানিশ তরুণ লামিন ইয়ামাল এবং নরওয়ের এর্লিং হল্যান্ডের মতো নতুন মুখও বড় দায়িত্বে দেখা যাবে।
ফিফা ২৩তম বিশ্বকাপের সূচি ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। পূর্ববর্তী কাতার বিশ্বকাপে মেসির উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর, ফিফা এইবার তারকা খেলোয়াড়দের উচ্চমানের পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে চায়, যাতে তারা ফাইনাল পর্যন্ত টিকে থাকে।
টিকিটের চাহিদা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। শেষ ১৫ দিনে ১.৫ কোটি দর্শকের টিকিটের আবেদন রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। পূর্বের দুইটি বিশ্বকাপে টিকিটের মাধ্যমে ভিসা প্রয়োজন হয়নি, তবে রাশিয়ায় সাংবাদিকদের ভিসা দরকার হয়েছিল, আর কাতার বিশ্বকাপে কোনো ভিসা প্রয়োজন হয়নি।
বিশ্বকাপের মোট সময়কাল প্রায় দুই মাস, তবে টুর্নামেন্টের উন্মাদনা এক মাস আগে থেকেই শুরু হবে এবং শেষের পরেও বছরের শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া উত্সবের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এই দীর্ঘ সময়কালে ভ্রমণ, ভোগবিলাস এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখা যাবে।
বিশ্বকাপের পরপরই কমনওয়েলথ গেমসের প্রস্তুতি শুরু হবে, যেখানে বাংলাদেশও অংশগ্রহণ করবে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত গেমস অনুষ্ঠিত হবে, এবং গেমসের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়া ইভেন্ট, এশিয়ান গেমসের সূচনা হবে।
এই ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক ইভেন্টগুলো দেশের ক্রীড়া উত্সাহীদের জন্য এক বিশাল উৎসবের মতো, যেখানে ভক্তরা একাধিক দেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পাবে।
বিশ্বকাপের সময়সূচি ও টিকিটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে তথ্য ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, এবং টুর্নামেন্টের সব ম্যাচের সময়সূচি শীঘ্রই নির্ধারিত হবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট ও বিস্তৃত অংশগ্রহণের ফলে গ্লোবাল ফুটবলের মানোন্নয়ন হবে এবং ছোট দেশগুলোও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবে।
উল্লেখযোগ্য যে, টুর্নামেন্টের সময় ভিসা নীতি সহজ করা হয়েছে, যা ভ্রমণ ও দর্শকদের প্রবেশ সহজতর করবে। টিকিটের উচ্চ চাহিদা সত্ত্বেও, ফিফা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল এবং পরবর্তী ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ক্যালেন্ডারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যেখানে পুরনো তারকা ও নতুন প্রতিভা উভয়ই সমানভাবে আলোতে আসবে।



