18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনেত্রকোনা দুর্গাপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ১০টি দোকানে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা

নেত্রকোনা দুর্গাপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, ১০টি দোকানে মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা

নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরে অবস্থিত বিভিন্ন দোকানে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একত্রে ফ্রিজে পঁচা ও বাসি গরুর মাংসের মজুদ, বিক্রয় এবং মূল্য তালিকা না থাকার অভিযোগে দশটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা আরোপ করেন।

অভিযানের সময় মোট নয়টি দোকানকে পঁচা ও বাসি মাংস বিক্রির জন্য ২৮,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এই দোকানগুলোতে ফ্রিজে সংরক্ষিত পঁচা গরুর মাংসের পরিমাণ ৬০ থেকে ৭০ কেজি পর্যন্ত জব্দ করা হয়। মূল্য তালিকা না থাকা, মাংসের গুণগত মানের অবনতি এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

অভিযানের আরেকটি ধাপ হিসেবে দুর্গাপুর পৌর শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় লাইসেন্সবিহীন এবং রঙ মিশ্রিত ভেজাল শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগে আরেকটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই দোকানটি শিশুদের জন্য বিক্রিত পণ্যগুলিতে অননুমোদিত রঙের ব্যবহার এবং মানদণ্ডের লঙ্ঘনের জন্য দায়ী বলে ধরা পড়ে।

ময়মনসিংহ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম অভিযানের তত্ত্বাবধান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মূল্য তালিকা না থাকা, ভেজাল খাবার বিক্রি এবং ফ্রিজে পঁচা গরুর মাংস সংরক্ষণসহ বিভিন্ন লঙ্ঘনের জন্য মোট দশটি প্রতিষ্ঠানে ৩২,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। রিনা বেগমের মতে, এই ধরনের লঙ্ঘন ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে এবং কঠোর শাস্তি দিয়ে নিয়ম মানিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক ও কবি জামাল উদ্দিন তালুকদারও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই দোকানগুলো ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে এবং কঠোর শাস্তি না দিলে এমন অপরাধের হার কমবে না। তার মন্তব্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে এই ধরনের লঙ্ঘনের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ স্পষ্ট হয়।

অভিযানের পর জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোক্তা অধিকার আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালত জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধের আদেশ দিতে পারে। এছাড়া, জব্দকৃত পঁচা গরুর মাংসের যথাযথ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও কঠোর শাস্তি দিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তারা আশা করেন, এই ধরনের অভিযান ও শাস্তি ভোক্তা সুরক্ষার জন্য একটি রূপান্তরমূলক উদাহরণ স্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন কমাবে।

অভিযানের ফলস্বরূপ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে যে, পঁচা ও বাসি মাংসের বিক্রয়, মূল্য তালিকা না থাকা এবং ভেজাল খাবার বিক্রি করা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখা তাদের প্রধান লক্ষ্য।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments