১ জানুয়ারি রাতের শেষভাগে নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন শহরে নববর্ষের উদযাপনকে লক্ষ্য করে বিস্তৃত হিংসা ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর ওপর বিস্ফোরক, আতশবাজি এবং পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, ফলে বহু আহত ও প্রাণহানি হয়েছে।
অ্যামস্টারডামের ঐতিহাসিক ভন্ডেলকের্ক গির্জা, যা ১৮৭২ সালে নির্মিত এবং ভন্ডেলপার্কের পাশে অবস্থিত, অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। গির্জার ৫০ মিটার উঁচু টাওয়ার ভেঙে যায়, যদিও মূল কাঠামো অক্ষত রয়ে যায়। আগুনের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
রটারড্যাম শহরে আতশবাজি ব্যবহারকারী দুইজনের মধ্যে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোর এবং আরেকজন ৩৮ বছর বয়সী পুরুষ নিহত হয়। একই সময়ে জার্মানির বাইলেফেল্ডে দুইজন ১৮ বছর বয়সী তরুণের মৃত্যু ঘটে, যারা ঘরোয়া আতশবাজি ব্যবহার করেছিল।
অ্যামস্টারডামের পুলিশ ইউনিয়নের প্রধান নাইন কুইমানের শিফটে তিনি নিজেও আতশবাজি ও অন্যান্য বিস্ফোরকের শিকার হন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের হিংসা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি।
দেশব্যাপী পুলিশ ও অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের ওপর আক্রমণ ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে। দক্ষিণের ব্রেডা শহরে পুলিশকে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রটারড্যামের চোখের হাসপাতাল জানায় যে ১৪ জন রোগী, যার মধ্যে ১০ জন নাবালক, চোখের আঘাতের শিকার হয়েছে; এর মধ্যে দুইজনকে সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়েছে।
ভন্ডেলকের্ক গির্জার টাওয়ার ধসে যাওয়ার ফলে ছাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে গির্জার মূল কাঠামো এখনও সুরক্ষিত বলে অনুমান করা হচ্ছে। গির্জাটি নেভি-গথিক শৈলীর বেসিলিকা, যার নকশা পিয়ের কুইপার্স করেছেন, যিনি রিক্সমিউজিয়ামসহ বহু উল্লেখযোগ্য নেদারল্যান্ডসের স্মারক নির্মাণের জন্য পরিচিত।
অনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয় এমন আতশবাজির ব্যবহার ২০২৬ সাল থেকে নিষিদ্ধ হবে। ডাচ পাইরোটেকনিক্স অ্যাসোসিয়েশন জানায় যে এই বছর অনুমোদিত না হওয়া আতশবাজিতে রেকর্ড ১২৯ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১১২ মিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয় হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডসের পুলিশ ও অগ্নি সেবার ওপর আক্রমণ, গির্জা অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য আঘাতের জন্য ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন আদালত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলি নেদারল্যান্ডসের নববর্ষ উদযাপনকে অশান্তিতে পরিণত করেছে এবং ভবিষ্যতে অনধিকারিক আতশবাজি ব্যবহার ও হিংসাত্মক আচরণ রোধে কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



