33 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা হিন্দু পরিবারে সন্তান বৃদ্ধি ও মুসলিম জনসংখ্যা সীমিত...

আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা হিন্দু পরিবারে সন্তান বৃদ্ধি ও মুসলিম জনসংখ্যা সীমিত করার আহ্বান জানালেন

আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংখ্যালঘু অধিকাংশের বসবাসকারী এলাকায় সন্তান জন্মের হার বেশি, আর হিন্দু পরিবারে তা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। শর্মা এই পার্থক্যকে সমাধান করার জন্য হিন্দু পরিবারকে বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু পরিবারকে এক সন্তানের মধ্যে থেমে না থেকে অন্তত দুইটি সন্তান নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো প্রয়োজন। তিনি যোগ করেন, যদি সক্ষম হয় তবে তিনটি সন্তান পর্যন্ত নেওয়া সম্ভব। এই আহ্বানটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।

শর্মা একই সময়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সীমাবদ্ধতা প্রস্তাব করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম পরিবারকে সাত থেকে আটটি সন্তান পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি হিন্দুদের সন্তান সংখ্যা বাড়ে না, তবে হিন্দু পরিবারকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট সম্পদ থাকবে না।

এই মন্তব্যের আগে, ২৭ ডিসেম্বর শর্মা আরেকটি সাক্ষাতে আসাম রাজ্যের জনসংখ্যা প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি পূর্বাভাস দেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমদের অংশ ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। শর্মা উল্লেখ করেন, তিনি যখন অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএসইউ) দিয়ে রাজনৈতিক কর্ম শুরু করেন, তখন মুসলিমদের জনসংখ্যা ২১ শতাংশ ছিল, যা ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ৩১ শতাংশে বেড়েছে।

শর্মা আরও জানান, ভবিষ্যতে মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশের উপরে উঠতে পারে, আর হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশ কমে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে আসামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।

এই বিবৃতিগুলোর প্রতি বিরোধী দল ও কিছু সমাজবিজ্ঞানী সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, জনসংখ্যা নীতি নির্ধারণে ধর্মীয় ভিত্তি ব্যবহার করা সংবেদনশীল এবং সংখ্যালঘু অধিকারের লঙ্ঘন হতে পারে। এছাড়া, পরিবার পরিকল্পনা নীতি সাধারণত স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে গৃহীত হয়, বাধ্যতামূলক সীমাবদ্ধতা সামাজিক বিরোধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, শর্মার সমর্থকরা বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মহার হ্রাসের ফলে ভবিষ্যতে শ্রমশক্তি ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তারা দাবি করেন, সরকারকে হিন্দু পরিবারকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা প্রদান করা উচিত, যাতে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় থাকে।

শর্মা উল্লেখিত তথ্যের উৎস হিসেবে এনডিটিভি (NDTV) উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই তথ্যগুলো সরকারী নীতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না, বরং জনমত গঠনে সহায়তা করবে।

আসাম সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে জনসংখ্যা নীতি পুনর্বিবেচনা, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি শক্তিশালী করা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সমতা বজায় রাখার জন্য সামাজিক সংলাপের আয়োজন করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। শর্মা ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সারসংক্ষেপে, আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা হিন্দু পরিবারে সন্তান সংখ্যা বাড়াতে এবং মুসলিম পরিবারে সন্তান সীমিত করতে আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের জনসংখ্যা কাঠামো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে রয়েছে, এবং আসাম সরকারের নীতি দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments