ঢাকা, আগারগাঁও – আজ বিকেল প্রায় ৪:২৫টায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সদর দফতরে একদল অনামিক ব্যক্তি প্রবেশ করে ইট ও পাথর নিক্ষেপ করে অফিসের অভ্যন্তরীণ অংশে ক্ষতি করেন। ঘটনাটি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) চালু করার সময় ঘটে, ফলে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নীতির ওপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিটিআরসি কর্মকর্তার মতে, গৃহীত ক্ষতি প্রধানত দরজা, জানালার ফ্রেম এবং কিছু ফার্নিচারে হয়েছে। দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পূর্বে, বিটিআরসি NEIR লঞ্চের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রেতাদের জন্য তথ্য জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এই সময়সীমা অনুসারে, বিক্রেতারা অবিক্রীত বা স্থিতিশীল ডিভাইসের তালিকা সরবরাহ করতে পারবে।
বহিরাগত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়মও প্রণয়ন করা হয়েছে। তারা তাদের ব্যবহৃত হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুইটি নতুন ডিভাইস আনতে পারবে, এবং তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডে সেগুলোকে NEIR-এ নিবন্ধন করতে পারবে। এই সময়ে ডিভাইসগুলো ব্লক হবে না, এবং নিবন্ধনের জন্য ভ্রমণ নথি ব্যবহার করা যাবে।
পোস্টস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস ডিভিশন পূর্বে হ্যান্ডসেট বিক্রেতাদের প্রতিবাদকে বিবেচনা করে NEIR চালু করার সময় তিন মাসের বিলম্ব অনুমোদন করে থাকে। ১০ ডিসেম্বর, ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজারে গ্রে-মার্কেট ডিভাইসের ব্লকেজের বিরোধে বিক্রেতাদের বড় প্রতিবাদে সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
NEIR প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবাহ রোধ করা, চুরি হওয়া ফোনগুলোকে ব্লক করা এবং দেশের মোবাইল বাজারকে একত্রিত করে স্বচ্ছতা আনা। এই রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি ডিভাইসের ইউনিক আইডি ও সিম কার্ডের তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে।
তবে, ডাটাবেজে ডিভাইস ও সিমের স্থায়ী সংযোগের ফলে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে, যদি এই তথ্য অন্য সিস্টেমের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়, তবে ব্যবহারকারীর মেটাডেটা ট্র্যাকিং সম্ভব হতে পারে। এই দিকটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
বিটিআরসি অফিসে ঘটিত হিংসাত্মক কাজের পরিপ্রেক্ষিতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি NEIR প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। সরকারী সংস্থা ও শিল্প প্রতিনিধিরা একসঙ্গে কাজ করে ডেটা সুরক্ষা ও বাজার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
এই ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা ও জনসাধারণের প্রত্যাশার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে NEIR সিস্টেমের সফলতা নির্ভর করবে কেবল প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে নয়, বরং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গৃহীত নীতিমালার কার্যকারিতার ওপর।



