ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেস্কা চেলসির প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। ক্লাবের বর্তমান অবস্থান প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম, এবং তিনি প্রথম মৌসুমে ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জয় করার ছয় মাসের কম সময়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চেলসির অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চারটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা সহ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো এখনও বাকি রয়েছে; তাই পরিবর্তন দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।
প্রিমিয়ার লিগে দলটি সাম্প্রতিক সাতটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একবার জয়লাভ করেছে এবং ডিসেম্বর মাসে ছয়টি ম্যাচে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষস্থানীয় আর্সেনাল থেকে ১৫ পয়েন্টের পিছিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলগুলো ক্লাবের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের একটি অংশ মাত্র।
মারেস্কা প্রথম মৌসুমে চেলসিকে শীর্ষ চারের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ইউইফা কনফারেন্স লিগ এবং ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জয় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই সাফল্যগুলো ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর পল উইনস্ট্যানলি, লরেন্স স্টুয়ার্ট এবং সহ-মালিক বেহদাদ এঘবালির কাছেও প্রশংসা অর্জন করে।
তবে সময়ের সাথে সাথে কোচ এবং ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ডিসেম্বর মাসে এভারটনের বিরুদ্ধে ২-০ জয়ের পর মারেস্কা এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, ক্লাবে তার যোগদানের পর থেকে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জিং ৪৮ ঘণ্টা তিনি পার করেছেন। এই মন্তব্যটি কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই প্রকাশিত হয়, ফলে স্টাফ এবং সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়।
ক্লাবের অভ্যন্তরে এই ধরনের প্রকাশের জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখতে চাওয়া হয়, তবে মারেস্কার মন্তব্যের ফলে অভ্যন্তরীণ পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ে। স্টাফরা প্রকাশের আগে বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করেছিল।
মারেস্কা পূর্বে ক্লাবের বাইরে নিজের প্রোফাইল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি একটি বই প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ক্লাবের অনুমোদন না পেয়ে তা বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া তিনি ইতালির ‘ইল ফেস্টিভাল দেল্লো স্পোর্ট’ ইভেন্টে, যা লা গাজেট্টা দেল্লো স্পোর্ট সংবাদপত্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়, অনুমতি ছাড়া অংশগ্রহণ করেন।
একই সময়ে, মারেস্কা জনসমক্ষে প্রকাশ করেন যে, লেভি কোয়িলের প্রি-সিজনে ক্রুকিয়াল লিগামেন্টের আঘাতের পর ক্লাবের কেন্দ্রীয় ডিফেন্ডার সাইন না করা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেন যে, অতিরিক্ত সাইনিং করলে আর্থিক ও দলগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
এই সব বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে চেলসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনো অনিশ্চিত। ক্লাবের বর্তমান লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নস লিগের যোগ্যতা নিশ্চিত করা, এবং অবশিষ্ট তিনটি প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করা। মারেস্কার প্রস্থানের পর নতুন কোচের নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।



