ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ সময় দুপুর একটায় দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি শোক জানাতে গিয়েছিলেন।
হাইকমিশনের প্রেস মন্ত্রী ফয়সাল মাহমুদ এই সময়ে তার আগমনের সঠিক সময় নিশ্চিত করে জানান।
হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহ রাজনাথ সিংকে স্বাগত জানিয়ে, হাইকমিশনের কার্যক্রমে তার উপস্থিতি স্বীকৃতি দেন।
মন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শোকবইতে স্বাক্ষর করা এবং খালেদা জিয়ার প্রতি সম্মানসূচক অঙ্গভঙ্গি করা।
সাইন করার পর, রাজনাথ সিং উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়া ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তার অবদান চিরস্মরণীয়।
শোকবইতে তিনি লিখে জানান, “খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোকের মুহূর্তে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তার অবদান ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করতে সর্বদা স্মরণীয় থাকবে।” এই বক্তব্যে তিনি ভারতের গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই সফরটি দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও ঘটেছে; বিশ্লেষকরা এটিকে কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
দশই ডিসেম্বর, হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর আহ্বানে একদল কর্মী বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে মিছিল চালায়, আর দুই দিন আগে, ২০ ডিসেম্বর, অন্য একটি দল হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে স্লোগান দিয়ে হুমকি জানায়।
এই ঘটনাগুলো হাইকমিশনের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন তুলেছে এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, রাজনাথ সিংয়ের সরাসরি হাইকমিশনে উপস্থিতি শুধুমাত্র শোক প্রকাশ নয়, বরং মিশনের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার বার্তাও বহন করে।
এর আগে, ৩১ ডিসেম্বর, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ঢাকায় গিয়ে খালেদা জিয়ার ছেলে, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষরিত একটি চিঠি উপস্থাপন করেন।
এই ধারাবাহিক উচ্চ পর্যায়ের সফরগুলোকে কূটনৈতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে স্পষ্ট করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শ্যাম কুমার খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে উল্লেখ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছেন এবং তার অবদান উভয় দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক ছিল।
রাজনাথ সিংয়ের এই সফর এবং পূর্ববর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোকে একসাথে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সংযোগের মাধ্যমে দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের গতি ত্বরান্বিত হতে পারে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।



