কুষ্টিয়া জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে, পাঠ্যবই বিতরণ শেষ হয়েছে। গত কয়েক বছরে বই পাওয়ার সময়সূচিতে দেরি হওয়ার অভিযোগের পর, এই বছর সময়মতো বিতরণ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের স্রোত তৈরি করেছে। শিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রাথমিক শ্রেণির জন্য বইয়ের সম্পূর্ণ তালিকা এই দিনেই শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছে।
বছরের শুরুতে বই না পেয়ে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় বাধা পেয়েছিলেন, বিশেষ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বই বিতরণে দেরি হওয়ায় অনেকেরই শিক্ষার গতি ধীর হয়ে গিয়েছিল। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে জানুয়ারি মাসে বই দেওয়া হলেও, প্রথম দিনেই না পেয়ে শিক্ষার্থীরা মাঝেমধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এই পটভূমি জানিয়ে, শিক্ষার্থীরা এবার সময়মতো বই পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মাহিন জানান, তিনি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বই পেয়েছিলেন, আর পূর্বের বছরগুলোতে জানুয়ারির প্রথম দিনে বই না পেয়ে দেরি হয়েছিল। এই বছর জানুয়ারির একদিনেই বই হাতে পেয়ে তিনি আনন্দের সাথে বললেন, “এবার সত্যিই প্রথম দিনেই সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে”। তার মতামত শিক্ষার্থীর মনোবল বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির তায়েপ আহসানও বই পাওয়ার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি নতুন বইয়ের গন্ধের প্রশংসা করে বলেন, “নতুন বইয়ের গন্ধই আমাকে পড়াশোনায় আরও উদ্যমী করে তুলেছে”। তাছাড়া, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে দ্রুত বই পাওয়া শিক্ষার গতি বাড়াবে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করবে। তার মন্তব্য শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা ও আত্মবিশ্বাসের সূচক।
মাধ্যমিক স্তরে কিছু শিক্ষার্থী এখনও সব বই পায়নি। কুষ্টিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. রাজ জানান, তিনি মাত্র তিনটি পাঠ্যবই পেয়েছেন, বাকিগুলো এখনও অমিল। শিক্ষকরা জানিয়েছেন যে বাকি বইগুলো এখনও রওনা হয়নি এবং আগামী মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ বই সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতায় কিছুটা বাধা সৃষ্টি করেছে।
একজন অভিভাবক শ্যামলীও এই বিতরণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “পূর্বের বছরগুলোতে বই পেতে দেরি হতো, কিন্তু এবার আমার সন্তান দ্রুতই সব বই পেয়েছে”। শ্যামলী আশা প্রকাশ করেন যে বই সময়মতো পাওয়া শিক্ষার্থীর মনোযোগ বাড়াবে এবং শিক্ষার গতি ত্বরান্বিত করবে। তিনি আরও বলেন, “প্রতিবছর জানুয়ারির শুরুতেই বই বিতরণ হলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে”।
প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া জেলায় প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যবইয়ের শতভাগ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সফলতা ভবিষ্যতে একই সময়ে বই বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, তিনি শিক্ষার্থীর শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সময়মতো বই সরবরাহের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী জানান, ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির জন্য পাঠ্যবই আংশিকভাবে পৌঁছেছে। তিনি জানিয়েছেন, বাকি বইগুলো ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদী। এই সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিকল্পনা শিক্ষার্থীর শিক্ষার গতি বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বিতরণ প্রক্রিয়ার সামগ্রিক ফলাফল দেখায় যে প্রাথমিক স্তরে সম্পূর্ণ বই সরবরাহের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়েছে, আর মাধ্যমিক স্তরে বাকি বইয়ের দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। শিক্ষা বিভাগ এখন বাকি বইগুলো দ্রুত রওনা করার জন্য লজিস্টিক ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করছে, যাতে সকল শিক্ষার্থী সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।
শিক্ষা গ্রহণে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: বই পাওয়ার পর দ্রুত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করুন, কোনো অনুপস্থিত অংশ থাকলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, এবং নিয়মিত পাঠের রুটিন গড়ে তুলুন। সময়মতো বই পাওয়া শিক্ষার গতি বাড়ায়, তাই বইয়ের ব্যবহার পরিকল্পনা করে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো উচিত।



