কুড়িগ্রাম জেলায় নতুন বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রাক‑প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিদ্যালয়ে বই বিতরণ শুরু হয়। এই উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত কর্মকর্তা নাজির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা পূর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোক প্রকাশে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়। এরপর কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন বইগুলোকে হাতে হাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাগ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলেনুর বেগমও অংশ নেন।
প্রাথমিক স্তরে চাহিদা অনুযায়ী শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে, তবে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্তরে এখনও কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায়ের মতে, এই বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রাথমিক স্তরের সব বই পাওয়া গেছে এবং সব বিদ্যালয়ে চাহিদা মাফিক বই পৌঁছেছে। তিনি যোগ করেন, বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ চালু রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ১,২৪০টি বিদ্যালয়কে লক্ষ্য করে প্রাথমিক স্তরের চাহিদা ১২,৬৫,৯৪৯টি বই ছিল, যা সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই বইগুলো সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে এবং শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যবই হাতে পেয়ে আনন্দিত।
মাধ্যমিক স্তরে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৫,৭২,৪৯০টি বই বরাদ্দ করা হয়েছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯,১,৮৩৬টি বই সরবরাহ করা হয়েছে, ফলে কিছু বিদ্যালয়ে এখনও অতিরিক্ত বইের অপেক্ষা চলছে।
দাখিল মাদ্রাসার চাহিদা ছিল ৮,৮১,১৫৬টি বই, যার মধ্যে ২,৫৮,৩৩৮টি বই পাওয়া গেছে। এদিকে এবতেদায়ি মাদ্রাসার জন্য ৬,৫২,২১০টি বই নির্ধারিত ছিল, যার মধ্যে ৫,৬২,২১০টি বই সরবরাহ করা হয়েছে।
এসএসসি ভোকেশনাল শাখার চাহিদা ৭৭,৭৬৩টি বই ছিল এবং তা সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দাখিল ভোকেশনাল শাখার ৪,৬৫০টি বইও পূর্ণ পরিমাণে পাওয়া গেছে।
বিতরণ কাজের দায়িত্বে থাকা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সব বই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে গেছে এবং বিতরণ প্রক্রিয়া চলমান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাকি থাকা বইগুলো সরবরাহের জন্য একটি পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এই মাসের শেষের দিকে সব বই পৌঁছে যাবে।
বিতরণকৃত বইগুলোতে নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়বস্তু রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে প্রথম দিকের শিখন প্রক্রিয়ায় আত্মবিশ্বাসী হতে পারে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: নতুন বই পাওয়ার পর প্রথমে সূচি অনুযায়ী বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করুন এবং কোনো অনুপস্থিত পৃষ্ঠা বা ক্ষতি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মীর কাছে জানিয়ে সমাধান করুন। এভাবে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
কুড়িগ্রাম জেলার শিক্ষাব্যবস্থার এই নতুন সূচনা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এবং আগামী মাসে বাকি বইগুলো সম্পূর্ণভাবে পৌঁছালে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।



