প্রধান শিক্ষাবিদ ও মাস শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর বিদ্যান রঞ্জন রায় পদ্দার আজকের সকালেই অগরগাঁয়ের আবুল বশার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশের সব প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নতুন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিতরণকালে উপদেষ্টা জানান, এই বছরের পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। তিনি এটিকে অস্থায়ী সরকারের জন্য একটি “বড় সাফল্য” হিসেবে উল্লেখ করে, শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণের বইগুলো দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সমানভাবে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রি-প্রাইমারি থেকে পাঁচম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮.৫৯ কোটি পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করা হয়েছে। মুদ্রণ, বাঁধাই এবং কাটা কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয়ে, সব বই আপাতত উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে, যাতে বিতরণ তারিখের আগে শিক্ষার্থীরা সেগুলো পেতে পারে।
এনসিটিবি আরও জানায়, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিতরণ ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরের বইগুলোর ক্ষেত্রে এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি, যা পরবর্তী সপ্তাহে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বছরের এই সময়ে সাধারণত অনুষ্ঠিত “বই উৎসব”ের উল্লাসময় পরিবেশ এই বছর অনুপস্থিত ছিল। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রমন্দির শোকের কারণে, বইগুলো আনুষ্ঠানিক কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াই সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার হতে পারে। তারা বিশ্বাস করেন, শিক্ষার অবকাঠামো ও সম্পদ সরবরাহের ধারাবাহিকতা নির্বাচনের পর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: নতুন পাঠ্যপুস্তক হাতে নেয়ার পর প্রথমে বিষয়সূচি ও সূচিপত্র যাচাই করুন, যাতে কোনো পৃষ্ঠা অনুপস্থিত না থাকে। এছাড়া, বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কভার ও পৃষ্ঠার মুদ্রণ পরিষ্কার কিনা তা পরীক্ষা করা উচিত।
বিতরণকৃত বইগুলোতে বিজ্ঞান, গণিত, বাংলা ও ইংরেজি সহ মূল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। শিক্ষাবিদরা আশা প্রকাশ করছেন, এই নতুন উপকরণগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গতি ত্বরান্বিত করবে এবং শিক্ষার গুণগত মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
প্রাথমিক স্তরের সব বিদ্যালয়ে বই পৌঁছানোর ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রস্তুত থাকবে, এবং শিখন প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই শুরু হবে। সরকার এই উদ্যোগকে শিক্ষার সমতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
অবশেষে, শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করা হচ্ছে, নতুন পাঠ্যপুস্তক ব্যবহার শুরু করার আগে শিক্ষকবৃন্দের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। এভাবে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ সুবিধা পাবে।



