বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ২০২৬ সালে বহু সিরিজে ব্যস্ত থাকবে, যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি সফর অন্তর্ভুক্ত। এই বছরকে দেশের টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জের বছর বলা হচ্ছে, কারণ শিডিউলে দশটি পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০০৩ সালের জুলাই মাসে অস্ট্রেলিয়ায় দুইটি টেস্ট ম্যাচে অংশ নেওয়া ছিল বাংলাদেশের প্রথম এবং এখনো শেষ টেস্ট সিরিজ। সেই সফরের পর থেকে দেশীয় ক্রিকেটে দুই‑তিন প্রজন্মের পরিবর্তন ঘটেছে, তবে সেই সময়ে সেরা ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান, সফল ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সোনালি প্রজন্মের মুশফিকুর রহমানের কেউই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টের সুযোগ পাননি।
প্রজন্মের এই ফাঁকটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। এখনো পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় টেস্টের স্বপ্ন পূরণ না করা খেলোয়াড়দের সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা আগামী বছরগুলোতে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে।
যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলবে। এই সফরটি দেশের টেস্ট ক্যালেন্ডারকে সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেবে।
বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি টেস্ট সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সফরটি অস্ট্রেলিয়ার পরের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত, যা টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
একটি পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ দশটি টেস্ট ম্যাচের রেকর্ড গড়ে তুলেছে (২০২২ ও ২০২৪ সালে)। ২০২৬ সালে একই সংখ্যক টেস্ট খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের টেস্ট ক্রিকেটের পরিমাণগত বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বছরের প্রথম মাসে দেশের ক্রিকেটের মনোযোগ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)‑এ কেন্দ্রীভূত থাকবে। স্থানীয় লিগের শেষে আন্তর্জাতিক দিকের ব্যস্ততা ফেব্রুয়ারিতে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচনার মাধ্যমে শুরু হবে।
টিকিটি বিশ্বকাপের সি গ্রুপে বাংলাদেশ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি এবং নেপালের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। গ্রুপের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতা, চতুর্থটি মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর বিশেষ নজর থাকবে।
বিশ্বকাপের পর মার্চে বাংলাদেশ ঘরে ফিরে পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলবে। দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচের পরিকল্পনা রয়েছে, যা পাকিস্তান সুপার লিগের আগে ও পরে ভাগ করা হবে।
এপ্রিলে দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ নির্ধারিত। তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে কিউইরা (নিউজিল্যান্ড) দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, যা হোম গ্রাউন্ডে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়াবে।
জুনে অস্ট্রেলিয়ায় সফর নির্ধারিত, যেখানে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এই সফরটি অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পিচে পারফরম্যান্সের পরীক্ষা হবে এবং পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।
জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে দুটি টেস্ট এবং পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সিরিজটি পরবর্তী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে তৎক্ষণাৎ আয়ারল্যান্ডে সফর নির্ধারিত, যেখানে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরটি ইউরোপীয় শর্তে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে।
অগাস্টে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অস্ট্রেলিয়া সফর আবার নির্ধারিত হয়েছে। দুটি টেস্টের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে ম্যাচগুলো ম্যাকাই ও ডারউইনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এই ভেন্যুগুলোতে খেললে বাংলাদেশ টেস্টের ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
প্রাথমিকভাবে এই অস্ট্রেলিয়া সফরটি মার্চে নির্ধারিত ছিল, যা টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের সঙ্গে একটি বিশেষ টেস্ট ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে ম্যাচগুলো এখন অগাস্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।



