27 C
Dhaka
Saturday, May 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা

বরগুনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বরগুনা-২ (পাথরঘাটা) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির ওপর নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ত্রাস সৃষ্টিকরণ এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হুমকি আরোপের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগটি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সুলতান আহমদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. শামীম আহসান লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন।

শামীম আহসান অভিযোগপত্রে জানিয়েছেন, ২৯ ডিসেম্বর তিনি পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য গেছেন, কিন্তু পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশ করেন। উপস্থিত দলটি ‘উচ্ছৃঙ্খল আচরণ’ করে এবং ‘বিদ্বেষমূলক স্লোগান’ উচ্চারণ করে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করে তুলেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী আচরণবিধি ধারা ৯(ঘ) অনুসারে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিসহ সর্বোচ্চ পাঁচজনই অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ওই সীমা অতিক্রম করে দলটি অফিসে ঢুকে সরকারি কাজের বাধা সৃষ্টি করে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি জানায়।

শামীম আহসান বলেন, “যদি কোনো প্রার্থী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে নাজেহাল করতে পারেন, তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়। আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে সমতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা নষ্ট হবে এবং নির্বাচনের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।”

অভিযোগপত্রের একটি কপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে শামীম আহসান জানান।

বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পাঁচজনের বেশি লোক নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্য প্রার্থীরা ১৮ ডিসেম্বর পাথরঘাটায় মাইক ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

মনির এই পাল্টা অভিযোগে তিনি জোর দেন, “আমার দল কখনোই বিধি লঙ্ঘন করেনি; বরং অন্য প্রার্থীরা আগে থেকেই স্লোগান ও মাইক দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করেছে।” তিনি অতিরিক্তভাবে দাবি করেন, ওই ঘটনার প্রমাণ রেকর্ডে আছে এবং তা তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

এই ঘটনাটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে উভয় দলই আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে এবং নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই ধরনের লঙ্ঘন নিয়মিতভাবে দমন না করা হয়, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা বাড়বে এবং ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বপন হবে। তাই নির্বাচনী পরিবেশের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করা সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগের ভিত্তি।

পরবর্তী ধাপে, অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কীভাবে তদন্ত পরিচালনা করবে তা দেখা হবে। উভয় পক্ষই আইনগত রূপরেখা অনুসরণ করে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে প্রস্তুত, যা আসন্ন নির্বাচনের গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments