অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের তিনজন মূল খেলোয়াড়—প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড এবং টিম ডেভিড—ইনজুরির পরেও আসন্ন টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে নামিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ায় দলীয় ব্যবস্থাপনা আত্মবিশ্বাসী যে তারা টুর্নামেন্টের আগে সম্পূর্ণ ফিট হবে।
প্যাট কামিন্সের পিঠে আঘাতের কারণে তিনি অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে পারেননি, তবে অস্ট্রেলিয়া অডিলেডে টেস্টে ফিরে এসে নিজের ফর্ম দেখিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসনের শেষ পর্যায়ে আছেন এবং জানুয়ারি শেষে স্ক্যানের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করা হবে। স্ক্যানের ফলাফলের ভিত্তিতে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।
জশ হ্যাজেলউডের ক্ষেত্রে হ্যামস্ট্রিং আঘাতের পর অ্যাকিলিসে ব্যথা দেখা দেয়, ফলে তিনি পুরো অ্যাশেজ সিরিজ মিস করেন। তার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অনুযায়ী হ্যামস্ট্রিং ও পায়ের টেন্ডনের চিকিৎসা চলছে, এবং চিকিৎসা দল আশা করছে যে তিনি টুর্নামেন্টের আগে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যে ফিরে আসবেন।
টিম ডেভিডের আঘাতের সূত্রপাত বিগ ব্যাশ লিগের সময়, যখন তিনি হ্যামস্ট্রিং গ্রেড‑টু আঘাত পেয়েছিলেন। তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান, এবং ফিজিক্যাল থেরাপি সেশনের মাধ্যমে পেশীর শক্তি পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। দলীয় চিকিৎসকরা ডেভিডকে টুর্নামেন্টের আগে ম্যাচের শারীরিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে আশাবাদী।
নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি উল্লেখ করেছেন যে, তিনজনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে চলছে এবং তারা বিশ্বকাপের আগে সম্পূর্ণ ফিট হতে পারে। বেইলি দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি এবং কন্ডিশনিং প্রোগ্রামকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে খেলোয়াড়রা শ্রীলঙ্কা ও ভারতের ভিন্ন ভিন্ন পিচে সফল হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার টি‑টোয়েন্টি দল সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের স্কোয়াড গঠনকে প্রভাবিত করেছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের গরম ও ভেজা পিচের কথা বিবেচনা করে দলটি স্পিনার-ভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ সংযোজন করেছে, যাতে বিভিন্ন কন্ডিশনে প্রতিযোগিতা করা যায়।
বেইলি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমান স্কোয়াড প্রাথমিক এবং সমর্থন পর্যায় শুরু হওয়ার আগে প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তন করা হতে পারে। এই নীতিমালা দলের গতি ও ফিটনেসের ওপর ভিত্তি করে নমনীয়তা বজায় রাখে, যা টুর্নামেন্টের আগে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়ক হবে।
এই বছরের টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ গ্রুপ ‘বি’ তে অস্ট্রেলিয়া কলম্বো ও পল্লেকেলে ম্যাচ খেলবে। দুইটি ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান ও পিচের বৈশিষ্ট্য দলকে কৌশলগতভাবে প্রস্তুত হতে বাধ্য করবে, বিশেষ করে স্পিনারদের ব্যবহার ও ব্যাটিং লাইনআপের সমন্বয়।
দলের অধিনায়ক হিসেবে মিচেল মার্শ দায়িত্বে রয়েছেন। গ্রীষ্মকালে ভারতের বিরুদ্ধে টি‑টোয়েন্টি সিরিজ মিস করা ক্যামেরন গ্রিন ও কুপার কনোলি পুনরায় স্কোয়াডে যুক্ত হয়েছেন। একমাত্র উইকেটকিপার জশ ইংলিস হিসেবে নির্বাচিত, আর মাইকেল ওয়েড ও বেন দ্বারশুইস এইবারের তালিকায় না থাকায় তাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অস্ট্রেলিয়া আলাদা স্কোয়াড ঘোষণা করবে। এই সিরিজটি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে এবং খেলোয়াড়দের ফর্ম যাচাইয়ের একটি সুযোগ দেবে।
সামগ্রিকভাবে, অস্ট্রেলিয়া দল পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকা তিনজন মূল খেলোয়াড়কে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। ফিটনেস টেস্টের ফলাফল এবং শারীরিক প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছালে, তারা টুর্নামেন্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে।



