ঢাকার মালিবাগ‑মৌচাক এবং খিলগাঁও ফ্লাইওয়ারে গত রাত ও আজ সকালে দু’টি আলাদা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে তিনজনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দুর্ঘটনা রাত ৪:৪৫ টার দিকে মালিবাগ‑মৌচাক ফ্লাইওয়ারের ফর্চুন মার্কেট ক্রসিংয়ের কাছাকাছি ঘটেছে, যেখানে সিএনজি চালিত অটো-রিকশা ও একটি মোটরসাইকেল মুখোমুখি ধাক্কা খেয়েছে।
ধাক্কা দু’টি যানবাহনকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুজনের জীবন হুমকির মুখে ফেলে। অটো-রিকশার চালক নয়ন তালুকদার, বয়স ৬০, এবং মোটরসাইকেল চালক ইয়াসিন আরাফাত আশিক, ২১, যিনি কলেজ ছাত্র, দুজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে রেসকিউ টিমের হাতে উদ্ধার করা হয়।
রেসকিউ কর্মীরা দুজনকে তৎক্ষণাৎ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকেরা তাদের প্রাণ হারিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করে। মৃতদেহগুলো পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মরগে পাঠানো হয় অটোডিসেকশনের জন্য।
রামনা থানা সাব‑ইনস্পেক্টর সুশান্ত কুমার জানান, দুর্ঘটনা ফর্চুন মার্কেট ক্রসিংয়ের ঠিক নিকটেই ঘটেছে এবং দুই যানই সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থল সুরক্ষিত করে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, খিলগাঁও ফ্লাইওয়ারে রাত ১১:৪৫ টায় একটি কভার্ড ভ্যানের সঙ্গে একটি পুলিশ অফিসারের মোটরসাইকেল ধাক্কা খায়। এই ধাক্কায় রুবেল হক, ৩২, যিনি বাংলাদেশ পুলিশে নায়েক পদে কর্মরত এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পোস্টেড, তৎক্ষণাৎ প্রাণ হারান।
খিলগাঁও থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রুবেল হক দুর্ঘটনাস্থলে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছেন এবং তার দেহ মুহগদা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পুলিশ পরবর্তীতে কভার্ড ভ্যানটি বাজেয়াপ্ত করে, তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রুবেল হকের দেহের পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মরগে অটোডিসেকশনের জন্য পাঠানো হবে।
উভয় দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। রামনা থানা ও খিলগাঁও থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও রেকর্ডিং, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তথ্য এবং গৃহীত সাক্ষ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দায়িত্বশীলদের শনাক্ত করা হবে।
স্থানীয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলোও এই দু’টি ঘটনার পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে।



