অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাইকেল ভন, চলতি অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টের পরই উসমান খাওয়াজাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভনের এই মন্তব্যের সঙ্গে, রোববার শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম ও শেষ টেস্টকে খাওয়াজার জন্য বিদায় জানানোর উপযুক্ত মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খাওয়াজা বর্তমানে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে স্থান পেতে পারছেন। তার সাদা বলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ২০১৯ সালে ওডিআইতে শেষ হয়েছে, আর তিন বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৬ সালে, টি‑টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের শেষ ম্যাচ খেলেছেন। সুতরাং, এখন তার একমাত্র সুযোগ টেস্ট ক্রিকেটে রয়ে গেছে, যদিও তার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
৩৯ বছর বয়সের এই বামহাতি ব্যাটসম্যানের টেস্ট ফর্মের অবনতি কয়েক বছর ধরে চলেছে। ২০২৪ সালে তিনি ৯টি টেস্টে ৪১৫ রান সংগ্রহ করে গড়ে ২৫.৯৩ পয়েন্ট অর্জন করেন, কোনো শতক না করে এবং মাত্র দুইবারই পঞ্চাশের বেশি স্কোর করেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে তিনি ১০টি টেস্টে ৬১৪ রান তৈরি করে গড়ে ৩৬.১১ পয়েন্ট অর্জন করেন, যার মধ্যে একটি শতক এবং একটি পঞ্চাশ অন্তর্ভুক্ত।
যদিও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে গড়ে উন্নতি দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে বিকল্পের অভাবের কারণে খাওয়াজা এখনও মূল ওপেনার হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন। তবে সিরিজের সূচনায় তার অবস্থান স্থির ছিল না। পেথের ব্যাকের অস্বস্তির কারণে, প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ওপেনার হিসেবে খেলতে পারেননি। সেই ইনিংসে তিনি জ্যাক ওয়েডারমোর এবং মার্লন লাবুশেনের সঙ্গে ওপেনিং করেন, কিন্তু প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে ব্যর্থ হন।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ট্রাভিস হেডকে ওপেনার হিসেবে পাঠায়। হেডের বিস্ফোরক শতক দলকে স্মরণীয় জয়ে নিয়ে যায়, এবং খাওয়াজা তৎপরতা দেখিয়ে ওয়েডারমোরের সঙ্গে বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংস শুরু করেন। তবে পিঠের সমস্যার অব্যাহত থাকা তাকে দ্বিতীয় টেস্টে, ব্রিসবেনে, একাদশে রাখে না। পরবর্তীতে ফিটনেস ফিরে এলে, অ্যাডিলেডের টেস্টে আবার একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুজব তীব্র হয়ে ওঠে।
সিরিজের শেষ টেস্টে, স্টিভেন স্মিথের দ্রুত আউট হওয়ার পর খাওয়াজা সুযোগ পায়, তবে তিনি চারে (শূন্য) দিয়ে শেষ হন। এই পারফরম্যান্সের সঙ্গে, ভনের অবসর পরামর্শের গুরুত্ব আবারও প্রকাশ পায়।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট শিডিউল অনুযায়ী, শেষ টেস্টের পর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে কোনো সিরিজ নির্ধারিত নেই, ফলে খাওয়াজার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কোনো সুযোগ নাও থাকতে পারে। ভনের পরামর্শ এবং শেষ টেস্টের ফলাফল দুটোই তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খাওয়াজা যদি এই শেষ টেস্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, তবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেন, নতুবা অবসর নেওয়া তার জন্য স্বাভাবিক বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে। ভনের মন্তব্য এবং দলের নির্বাচনী নীতি দুটোই এখন খাওয়াজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল বিষয়।



