যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি রাজ্য নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সরকারী খাবার সহায়তা (SNAP) গ্রহণকারীদের জন্য ক্যান্ডি ও সফট ড্রিংক কেনা বন্ধ করবে। এই পদক্ষেপটি স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গৃহীত হয়েছে। লক্ষ্য হল ট্যাক্সদাতার অর্থ দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনা সীমিত করা।
প্রভাবিত রাজ্যগুলো হল ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ইউটা, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া এবং নেব্রাস্কা, যেখানে ১ জানুয়ারি থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই রাজ্যগুলোতে নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি লক্ষ্য করা হয়েছে, যাঁরা স্ন্যাপের মাধ্যমে খাবার কিনেন।
স্ন্যাপের সুবিধাভোগীরা মূলত দারিদ্র্য রেখার নিচে বসবাসকারী পরিবার, যারা ট্যাক্সদাতার সহায়তায় খাবার ক্রয় করেন। নতুন নীতি তাদের ক্রয়যোগ্য তালিকা থেকে নির্দিষ্ট মিষ্টি ও পানীয় বাদ দেবে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নীতির পেছনে স্বাস্থ্য সচেতনতায় কাজ করা রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্রুক রোলিন্সের নেতৃত্ব রয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, সরকারী তহবিল দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনা দীর্ঘমেয়াদে রোগের বোঝা বাড়ায়।
কেনেডি উল্লেখ করেন, স্ন্যাপের তহবিল দীর্ঘদিন ধরে সফট ড্রিংক ও ক্যান্ডি কেনায় ব্যবহার হয়েছে, যা ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তাই তিনি ট্যাক্সদাতার অর্থকে স্বাস্থ্যকর পণ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিতে চান।
ইতিহাসগতভাবে স্ন্যাপ প্রোগ্রাম গ্রোসারি স্টোরের বেশিরভাগ পণ্য কেনার অনুমতি দেয়, তবে হট ফুড, তামাক, মদ্যপ পানীয় এবং কিছু সাপ্লিমেন্ট বাদ থাকে। এখন পর্যন্ত ১৮টি রাজ্য অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য ছাড়ের আবেদন করেছে।
কিছু রাজ্য সফট ড্রিংক ও ক্যান্ডি ছাড়াও প্রস্তুত ডেজার্ট, ফলের রস এবং অন্যান্য “অস্বাস্থ্যকর পানীয়” নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা পুষ্টিকর খাবারের দিকে ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়।
প্রথমে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও ইউটা সফট ড্রিংক বিক্রি বন্ধ করবে; নেব্রাস্কা সফট ড্রিংক এবং এনার্জি ড্রিংক দুটোই নিষিদ্ধ করবে; ইন্ডিয়ানা সফট ড্রিংক ও ক্যান্ডি দুটোই তালিকা থেকে বাদ দেবে।
আইওয়া সবচেয়ে কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করবে; সফট ড্রিংক, ক্যান্ডি এবং রাজ্যের বিক্রয় করের আওতায় থাকা অন্যান্য প্যাকেজড খাবার, যেমন চকলেট-লেপিত বাদাম ও মিষ্টি পপকর্ন, সবই নিষিদ্ধ হবে।
এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের মধ্যে অন্যান্য রাজ্যেও ধীরে ধীরে প্রয়োগ হবে। ফ্লোরিডা ও টেক্সাস এপ্রিল মাসে, সাউথ ক্যারোলাইনা আগস্টে, এবং মিসৌরি অক্টোবর মাসে নিজ নিজ সীমাবদ্ধতা শুরু করবে।
বর্তমানে প্রায় ৪২ মিলিয়ন মানুষ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ, স্ন্যাপ সুবিধা গ্রহণ করে। এই বৃহৎ গ্রুপের ওপর নতুন নিয়মের প্রভাব ব্যাপক হবে।
বিপক্ষের মতামতও তীব্র। কিছু বিশ্লেষক বলেন, স্ন্যাপ প্রোগ্রাম ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তারা রিটেইলার ও গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অপারেশনাল সমস্যার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
বিরোধীরা আরও সতর্ক করেন যে, সরকারী শাটডাউন পরবর্তী সময়ে স্ন্যাপের দেরি ও গণ্ডগোল বাড়তে পারে, ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপটি স্বাস্থ্য নীতি ও সামাজিক সহায়তা প্রোগ্রামের মধ্যে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ, ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় ও ভোটারদের মতামত গঠনের প্রক্রিয়া দেখা যাবে।



