26 C
Dhaka
Friday, May 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচীন ১ জানুয়ারি কনডমে ১৩% কর আর শিশুকালীন সেবায় ভ্যাট ছাড়ের পরিকল্পনা

চীন ১ জানুয়ারি কনডমে ১৩% কর আর শিশুকালীন সেবায় ভ্যাট ছাড়ের পরিকল্পনা

চীন সরকার ১ জানুয়ারি থেকে গর্ভনিরোধক পণ্যের ওপর ১৩% বিক্রয় কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়, একই সময়ে শৈশবকালীন যত্ন সেবাকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে অব্যাহতি দেয়। এই পদক্ষেপটি দেশের জন্মহার বাড়ানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যেখানে পরিবার গঠন ও সন্তান জন্মে উৎসাহিত করার জন্য নানাবিধ নীতি চালু করা হচ্ছে।

গত বছর শেষের দিকে ঘোষিত কর সংস্কার পরিকল্পনা ১৯৯৪ সাল থেকে চালু থাকা বহু করমুক্তি বাতিল করে, যা একসময় এক সন্তান নীতি সময়ে প্রয়োগ করা হয়েছিল। নতুন কাঠামোতে কনডম, গর্ভনিরোধক গুলি ও যন্ত্রপাতি সহ সব ধরণের গর্ভনিরোধক পণ্যের ওপর সরাসরি বিক্রয় কর আরোপ করা হবে, যা পূর্বে করমুক্ত ছিল।

এছাড়া, বিবাহ সংক্রান্ত সেবা এবং বয়স্কদের যত্নের ক্ষেত্রেও ভ্যাট থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই অব্যাহতি পরিবার গঠনের প্রাথমিক খরচ কমিয়ে, দম্পতিদের বিবাহে অগ্রসর হতে সহায়তা করার লক্ষ্য রাখে।

কর ছাড়ের পাশাপাশি, সরকার মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব ছুটি বাড়ানো, নগদ সহায়তা প্রদান এবং অন্যান্য আর্থিক প্রণোদনা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এসব উদ্যোগ একসাথে কাজ করে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা থামিয়ে, কর্মক্ষম জনসংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্য পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের জনসংখ্যা তিন বছর ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ৯.৫৪ মিলিয়ন শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হয়েছে। এই সংখ্যা দশ বছর আগে জন্মের পরিমাণের প্রায় অর্ধেক, যখন দেশটি সন্তান সংখ্যা সীমা শিথিল করার নীতি গ্রহণ করেছিল।

গর্ভনিরোধক পণ্যের উপর কর আরোপের ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি, কিছু মানুষ এই করকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করে, কারণ কনডমের দাম বাড়লেও তা সন্তান জন্মের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না বলে তারা মনে করেন।

একজন খুচরা বিক্রেতা গ্রাহকদেরকে মূল্যবৃদ্ধির আগে স্টক সংগ্রহ করতে আহ্বান জানায়, আর সামাজিক মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মজার ছলে লিখেছেন, “আমি এখনই আজীবন ব্যবহারের জন্য কনডম কিনে রাখব।” অন্য একজন মন্তব্যে কনডমের দাম ও শিশুর লালন-পালনের খরচের পার্থক্য তুলে ধরেছেন।

চীনের শিশুপালন খরচ বিশ্বে সর্বোচ্চের মধ্যে একটি, এমনটি ২০২৪ সালে বেইজিংয়ের ইউয়াও পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ শিক্ষার ফি, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মজীবন ও মাতৃত্বের সমন্বয়কে কঠিন করে তোলার ফলে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

অর্থনৈতিক মন্দা, বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট সংকটের ফলে সঞ্চয়ের হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিবারগুলোকে সন্তান পরিকল্পনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি যুবক-যুবতীদের মধ্যে বিবাহ ও সন্তান গ্রহণে অনুপ্রেরণার অভাব বাড়িয়ে তুলেছে।

সরকারের এই কর নীতি ও সামাজিক সহায়তা প্যাকেজের সমন্বয় ভবিষ্যতে জনমিতিক কাঠামোকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে নীতি বাস্তবায়নের গতি ও জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতা ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজারে কনডমের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, পরিবার গঠনের মোট খরচের তুলনায় তা নগণ্য বলে মনে হয়। এই পার্থক্যকে তুলে ধরে নাগরিকরা সরকারকে শিশুপালনের সামগ্রিক ব্যয় কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

সারসংক্ষেপে, চীন ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গর্ভনিরোধক পণ্যের ওপর কর আরোপ এবং শিশুকালীন সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করে জন্মহার বাড়ানোর নতুন কৌশল চালু করেছে। এই নীতি, অন্যান্য পারিবারিক সহায়তা পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে, জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা থামিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে লক্ষ্য রাখে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments