নতুন বছরের আগের সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার এ‑লিগে ব্রিসবেন রোয়ার ও সেন্ট্রাল কোস্ট মারিনার্সের মুখোমুখি ম্যাচে রোয়ার ২-১ তে জয়লাভ করে। ম্যাচের শেষের দিকে, ৯২তম মিনিটে ফরোয়ার্ড জাস্টিন ভিদিকের হেডার গোল দলকে বিজয়ী করে তুলেছে।
তবে ফলাফলের আগে অর্ধ‑সময়ের শেষের দিকে ঘটিত ঘটনাগুলোই অধিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রোয়ারের কোচ মাইকেল ভ্যালকানিস প্রথমে সাইডলাইন থেকে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণে একটি হলুদ কার্ড পান। রেফারি অ্যালেক্স কিংকে বিদ্রূপাত্মকভাবে তালি দিয়ে তিনি প্রথম সতর্কতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি অপরাধের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে রূপান্তরিত হয়।
ভ্যালকানিসের এই দুইটি বুকিং অর্ধ‑সময়ের অতিরিক্ত সময়ে ঘটেছে, ফলে তিনি মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে এটি কোনো খেলোয়াড়ের পরিবর্তে হওয়ায় দলের গেমপ্লে বা স্কোরে সরাসরি কোনো অসুবিধা সৃষ্টি হয়নি।
অর্ধ‑সময়ের সিগন্যালের পর, উভয় দলের খেলোয়াড় ও স্টাফ টানেলে তীব্র কথোপকথনে লিপ্ত হন। উভয় দিকের প্রতিনিধিরা একে অপরের প্রতি রাগ প্রকাশ করে, যার ফলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে না পারায় টানেলে উপস্থিত পুলিশকে হস্তক্ষেপের জন্য ডাকা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পরই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং ম্যাচটি পুনরায় শুরু হয়।
সেন্ট্রাল কোস্টের ইন্টারিম কোচ ওয়্যারেন মুন, যিনি পূর্বে রোয়ার দলের খেলোয়াড় ছিলেন, এই ঘটনার পর তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি রোয়ার স্টাফের আচরণকে ‘অবমাননা’ ও ‘লজ্জা’ হিসেবে বর্ণনা করে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আহ্বান জানান।
মুনের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি যা দেখেছি তা সম্পূর্ণভাবে অনুপযুক্ত এবং দুঃখজনক। অর্ধ‑সময়ের আগে ও পরে টানেলে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তা ক্রীড়া নীতির বিরোধী।” তিনি আরও যোগ করেন, “কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবে এটি খেলোয়াড়ের ক্ষতি নয়; তবে শীতল মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয়তা এখানে পূরণ হয়নি।”
মুন ৪৩ বছর বয়সী এবং কুইন্সল্যান্ড ফুটবলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তার ক্যারিয়ারে রোয়ার দলের হয়ে খেলেছেন এবং পরবর্তীতে কয়েক সিজন কোচিং করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে রোয়ার স্টাফের আচরণ সম্পর্কে বিশেষভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ম্যাচের শেষের দিকে ভিদিকের গেম-উইনিং গোলের পর রোয়ার ভক্তদের মধ্যে উল্লাসের স্রোত বইতে থাকে, তবে টানেলে ঘটিত বিশৃঙ্খলা ও পুলিশ হস্তক্ষেপের স্মৃতি এখনও মুছে যায়নি।
অধিকর্তা সংস্থা এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে ম্যাচের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর দায়িত্ব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ম্যাচের পর রোয়ার ও মারিনার্সের পরবর্তী লিগের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে উভয় দলই এই ঘটনার পর শৃঙ্খলা রক্ষার দিকে মনোযোগ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



