বিশ্ব তেল বাজারে বছরের শেষের দিকে তৃতীয়বারের মতো দাম হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে গড়ে তেলের মূল্যে ১৫ শতাংশের বেশি হ্রাস রেকর্ড হয়েছে, যা অতিরিক্ত উৎপাদন ও চাহিদার দুর্বলতা থেকে উদ্ভূত।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ২০২০ সালের পর এখনো তেলের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কমে, এবং এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধারাবাহিক তিন বছর বার্ষিক হ্রাসের রেকর্ড তৈরি করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬১ ডলার, আর যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাজারে সরবরাহের পরিমাণ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে শেল তেল উৎপাদন স্থিতিশীল থাকায় অতিরিক্ত তেল বাজারে প্রবেশ করেছে, ফলে ঘাটতি তৈরি হয়নি এবং দামের উত্থানের সুযোগ কমে গেছে।
বছরের শুরুর দিকে তেলের দাম সাময়িকভাবে বাড়ে, যখন রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আর ইউক্রেনের যুদ্ধ তীব্র হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত, হুমায়ূন গোষ্ঠীর তেল পরিবহন হুমকি ইত্যাদি বিষয়গুলোও স্বল্পমেয়াদে দামের উত্থান ঘটায়।
তবে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে দ্রুত শীতল হয়। একই সময়ে, ওপেক প্লাস জোট তেল উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে। বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতি ও চাহিদা হ্রাসের সঙ্গে মিলিয়ে দাম আরও নিচে নামার প্রবণতা দেখা যায়।
আগামী বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা না থাকলেও, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন পরবর্তী বছরেও তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকবে, যা দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ বজায় রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, তবে ওপেক প্লাস উৎপাদন কমানোর দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে বর্তমান দামের স্তরে কোনো বড় পরিবর্তন প্রত্যাশিত নয়।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, তেলের দাম হ্রাসের ফলে জ্বালানি খরচ কমে, তবে একই সঙ্গে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রাজস্বে প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে। কোনো অপ্রত্যাশিত যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তেলের দামে তীব্র পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা বাজারের অস্থিরতা বাড়াবে।
সারসংক্ষেপে, অতিরিক্ত সরবরাহ, দুর্বল চাহিদা এবং সীমিত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তেলের দামের ধারাবাহিক হ্রাসের প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে সরবরাহের ভারসাম্য ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দামের দিক নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



