দক্ষিণ আফ্রিকায় ঐতিহ্যবাহী খতনা উৎসবের সময় গত দুই মাসে অন্তত ৪১ তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। এই তথ্য দেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ভেলেনকোসিনি হ্লাবিসা নিশ্চিত করেছেন। অধিকাংশ মৃত্যুর কারণ খতনা পরবর্তী সংক্রমণ এবং তীব্র পানিশূন্যতা, যা দ্রুত শারীরিক অবনতি ঘটিয়ে প্রাণহানি করে।
প্রতিবছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে খোসা, এনদেবেলে, সোথো ও ভেন্ডা সম্প্রদায়ের কিশোর-কিশোরীরা এই রীতি পালন করে। দক্ষিণ আফ্রিকার শিশু আইন ২০০৫ অনুসারে ১৬ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের জন্যই খতনা অনুমোদিত, আর ১৬ বছরের নিচের বয়সের জন্য এটি আইনত নিষিদ্ধ। তবে অনিয়ন্ত্রিত স্কুলগুলোতে এই সীমা উপেক্ষা করে তরুণদের খতনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রীর মতে, খতনা পরিচালনাকারী স্কুলগুলোর অবহেলা এবং অভিভাবকদের অজ্ঞতা এই মৃত্যুর মূল কারণ। কিছু স্কুলে তরুণদের পানীয় গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, কারণ তারা বিশ্বাস করে যে পানি না খেলে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যাবে। তীব্র গরমের পরিবেশে এই পদ্ধতি পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দেয়, যা মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খতনা পরিচালনাকারী সব স্কুলকে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবু বহু অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব অনিবন্ধিত স্কুলে ১৬ বছরের নিচের কিশোর-কিশোরীদেরও খতনা করানো হয়েছে, এবং অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা এখানেই ঘটেছে। অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর তদারকি না করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
মৃত্যুর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে ইস্টার্ন কেপ প্রদেশকে প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ২১ জন তরুণের মৃত্যু হয়েছে। ফ্রি স্টেট প্রদেশে ১৩ জন এবং অন্যান্য অঞ্চলে অতিরিক্ত সাতজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
অবৈধ খতনা স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে গৃহীত অভিযান চলাকালীন এখন পর্যন্ত ৪১ জন সংশ্লিষ্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় ২০০ জন তরুণ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আফ্রিকান সংস্কৃতিতে ছেলেদের একাকী স্থানে নিয়ে গিয়ে সামাজিক দায়িত্ব, যুদ্ধকৌশল এবং পুরুষত্বের শিক্ষা দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়া খতনা করা হয়, যা এই আচার-অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনুষ্ঠান শেষে তরুণরা বাড়ি ফিরে বড় উদযাপন করা হয়, তবে এই প্রথা প্রতি বছর বহু তরুণের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন যে, খতনা প্রক্রিয়ায় সঠিক চিকিৎসা সেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অপরিহার্য। অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে দূরে থাকা, নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে খতনা করানো এবং পোস্ট-অপারেটিভ পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত। তাছাড়া, অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের শারীরিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করা।
এই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটতে না দেওয়ার জন্য সরকারকে অনিবন্ধিত খতনা কেন্দ্রের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। আপনি কি আপনার সম্প্রদায়ে এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত প্রথা সম্পর্কে সচেতন? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিন।



