চেলসি ফুটবল ক্লাবের প্রধান কোচ এনজো মারেস্কা জানুয়ারি শেষের আগে দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে না আনলে তার পদত্যাগের ঝুঁকি বাড়ছে। ইতালীয় কোচের অধীনে দলটি সম্প্রতি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বোর্নমাউথের সঙ্গে ২-২ ড্র করে ঘরে ভক্তদের তীব্র নিন্দা পেয়েছে। এই ফলাফলটি ক্লাবের সাম্প্রতিক লিগ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক পতনের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বোর্নমাউথের সঙ্গে ড্রের পরে ভক্তদের তালি ও নিন্দা মারেস্কার ওপর তীব্র চাপ বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দু’টি সমান স্কোরে সমাপ্ত হওয়ায় চেলসির সমর্থকরা স্টেডিয়ামের সিটে উঠে দাঁড়িয়ে কোচের কৌশল ও পরিবর্তনগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই প্রতিক্রিয়া দলের সাম্প্রতিক সাতটি লিগ ম্যাচে মাত্র একটি জয় অর্জনের পর আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
চেলসির লিগে পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত খুবই অনিয়মিত। সিজনের শুরুতে শীর্ষে থাকা দলটি এখন পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে এবং ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারাচ্ছে। বিশেষ করে জয়লাভের পরেও দলটি প্রায়ই জয়ী অবস্থান থেকে পয়েন্ট হারিয়ে ফেলেছে, যা মোট ১৫ পয়েন্টের হ্রাস ঘটিয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছে।
আগামী রবিবার চেলসি ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা মারেস্কার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। যদি এই ম্যাচে দলটি প্রত্যাশিত ফলাফল না পায়, তবে কোচের অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে যাবে। ক্লাবের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে কোচের গেম ম্যানেজমেন্ট ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে, এবং কিছু বিশ্লেষক এই ম্যাচকে কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
মারেস্কা সম্প্রতি “সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা” কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই মন্তব্যটি ইভারটনের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর প্রকাশিত হয়, তবে তার সুনির্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট করা হয়নি। কোচের এই অমীমাংসিত মন্তব্য দলীয় অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি বাড়িয়ে দেয় এবং ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ককে তিক্ত করে।
ইভারটন ম্যাচের পর মারেস্কা “অনেক মানুষ” তার পক্ষে নয় বলে মন্তব্য করেন, তবে তিনি এই মন্তব্যের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে অস্বীকার করেন। এই অস্বচ্ছতা ভেতরে গুজবের স্রোত বাড়িয়ে দেয়, যেখানে কিছু সূত্র কোচের সঙ্গে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এই গুজবগুলো এখনও অনুমানসাপেক্ষ।
চেলসির মালিক টড বোহলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের অধীনে পরিচালনা দল মাঝ-সিজনে কোচ পরিবর্তনের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত। টমাস টুচেল ও গ্রাহাম পটারকে সিজনের প্রথম ভাগে বরখাস্ত করার পর থেকে ক্লাবের বোর্ড এই ধরনের পদক্ষেপে সতর্কতা অবলম্বন করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সিজনের শেষ পর্যন্ত কোচের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, যদিও গ্রীষ্মে কোচের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল।
সারসংক্ষেপে, চেলসির বর্তমান অবস্থান পঞ্চম স্থান এবং ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে মারেস্কার জন্য সময় সংকুচিত হয়েছে। যদি তিনি আগামী সপ্তাহের ম্যাচে ফলাফল না বদলাতে পারেন, তবে জানুয়ারি শেষের আগে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা বাড়বে। ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখনো কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি, তবে দলীয় পারফরম্যান্সের উন্নতি না হলে পরিবর্তনের চাপ বাড়বে।



