ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) এর কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানকে শোকপত্র পাঠিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অকাল মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া, যিনি ৭৯ বছর বয়সে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বহু গুরুতর স্বাস্থ্যের জটিলতার পর মারা যান, তার দেহ বুধবার শের-ই-বাংলা নগরে স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত হয়েছে। শোকপত্রে মোদি তার গভীর শোক প্রকাশ করে, জিয়ার অবদান ও নেতৃত্বকে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতে তার আদর্শের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।
খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালবেলায় এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তিনি, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা অর্জন করেন। তার মৃত্যুর পর শের-ই-বাংলা নগরে অনুষ্ঠিত সমাধি অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তার স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোকপত্রে জানিয়েছেন, তিনি জিয়ার অকাল প্রয়াণে গভীর দুঃখ অনুভব করছেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করছেন। তিনি জিয়ার সঙ্গে ২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের কথা স্মরণ করে, তার দৃঢ়সংকল্প ও নীতিবোধের প্রশংসা করেন। মোদি উল্লেখ করেন, জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর গৌরব অর্জনকারী এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
মোদি আরও বলেন, জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে বহু উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নীতি-নির্ধারণের মাধ্যমে উভয় দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তি মজবুত হয়েছে, এ কথা তিনি শোকপত্রে তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোকপত্রে জিয়ার আদর্শের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে আশাবাদী সুরে মন্তব্য করা হয়েছে। মোদি তরিক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই আদর্শগুলোকে বজায় রাখবে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন সূচনা ঘটাবে, এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি যদি জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
শোকপত্রের শেষাংশে মোদি আল্লাহ্র কাছে তরিক ও তার পরিবারের জন্য শক্তি ও সহনশীলতা প্রার্থনা করেছেন, যাতে তারা এই কঠিন সময় অতিক্রম করতে পারেন। তিনি জিয়ার পরিবারকে সমর্থন জানিয়ে, দেশের সকল নাগরিককে শোক প্রকাশের আহ্বান জানান।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, যিনি খালেদা জিয়ার শেষ সমাহিতে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, তরিক রহমানের হাতে মোদি-র শোকপত্র হস্তান্তর করেন। জয়শঙ্কর তরিককে বলেন, ভারত জিয়ার অবদানকে সম্মান করে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও深化 করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এই শোকপত্রের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও তার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি অবদানকে স্মরণ করে, দু’দেশের নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতার নতুন সূচনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি যদি জিয়ার নীতি-দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জিয়ার স্মৃতি ও তার অবদানকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রকল্প ও সহযোগিতা সম্ভব হবে।
শোকের মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে, তবে তার আদর্শ ও অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
মোদি ও জয়শঙ্করের শোকপত্র হস্তান্তর, তরিকের নেতৃত্বে বিএনপি এবং ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয় দেশের সরকার ও জনগণ জিয়ার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে, তার আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



