২০২৫ সালে পাঠকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করা ব্যবসা‑সংবাদগুলো কী ছিল? যুক্তরাষ্ট্র‑বাংলাদেশ বাণিজ্য, স্বর্ণের দাম, ডলার বাজার এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি গল্প শীর্ষে রইল। এই নিবন্ধে প্রতিটি ঘটনার মূল তথ্য, বাজারের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১০ই অক্টোবরের শেষের দিকে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি আমেরিকান গমের প্রথম কনসাইনমেন্ট গ্রহণ করে। মোট ৫৭,০০০ টন গমের জাহাজটি গভার্নমেন্ট‑টু‑গভার্নমেন্ট চুক্তির অধীনে ঢুকে, বাংলাদেশ‑যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি পরিবর্তনের পর সরাসরি আলোচনার ফল, যা বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ট্যারিফ হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত। গমের সরবরাহ বৈচিত্র্য আনা এবং খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য, ফলে কৃষি‑খাদ্য বাজারে সরবরাহ‑চাহিদার ভারসাম্য পুনর্গঠন প্রত্যাশিত।
গমের আগমন দেশের রুটি‑চাপাতি, পাস্তা এবং অন্যান্য গম‑ভিত্তিক পণ্যের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দীর্ঘমেয়াদে আমদানি‑নির্ভরতা কমে, স্থানীয় গম উৎপাদনের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে গ্লোবাল গমের দাম পরিবর্তনশীল থাকায়, ভবিষ্যতে মূল্য‑ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে হেজিং বা বিকল্প ফসলের চাষের প্রয়োজন হতে পারে।
স্বর্ণের দাম ২০২৫ সালে ধারাবাহিক উত্থান‑পতনের পর আবার হ্রাস পায়। ১৮ই নভেম্বর, স্থানীয় গহনা সমিতি এক ভোরি স্বর্ণের দাম টাকার ২০৬,৯০৭ নির্ধারণ করে, যা অক্টোবরের রেকর্ড উচ্চতার পর দ্বিতীয়বারের মতো হ্রাস। স্বর্ণের এই দোলন দেশের গৃহবিবাহ ও সম্পদ‑সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, ফলে দাম পরিবর্তন সরাসরি ভোক্তা ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত।
স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা‑সরবরাহের সামঞ্জস্য এবং ডলারের শক্তি‑দুর্বলতার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। দাম কমলে গহনা বিক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদে লাভের সুযোগ পায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে। বাজারের অস্থিরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বর্ণের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা নীতি সমন্বয় করতে পারে।
ডলারের ঘাটতি এবং টাকার অবমূল্যায়ন ২০২৪‑২৫ সালে দেশের আর্থিক শিরোনাম শীর্ষে ছিল, তবে অক্টোবরের শেষের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়। ২২ই অক্টোবর, ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রির হার টাকার ১২২.৭৫ পর্যন্ত পৌঁছে, যা আমদানি চাহিদা এবং লেটার‑অফ‑ক্রেডিট (LC) খোলার বৃদ্ধির ফলে ঘটেছে। এই হার ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য আমদানি পণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং বহিরাগত পেমেন্টের চাপ বৃদ্ধি পায়।
ডলার বিক্রির এই প্রবণতা দেশের রপ্তানি‑ইম্পোর্ট ভারসাম্য, মুদ্রা রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক ঋণের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল না থাকে, তবে টাকার অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত হবে, যা ঋণ‑সেবা এবং ভোক্তা ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে। তাই নীতি নির্ধারকদের জন্য ডলার বাজারের স্বচ্ছতা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের কৌশল পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
ডিজিটাল পেমেন্ট সেক্টরেও ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য পাঠক‑আগ্রহ দেখা যায়। ৩ই মে, দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী bKash এর আয় সংক্রান্ত সংবাদ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি, তবে এই খবরটি বছরের শীর্ষ ব্যবসা‑সংবাদগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
bKash এর আয় বৃদ্ধি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত প্রসার এবং নগদ‑বিহীন লেনদেনের প্রবণতা নির্দেশ করে। উচ্চতর আয় মানে ব্যবহারকারী সংখ্যা বৃদ্ধি, লেনদেনের পরিমাণ বাড়া এবং নতুন সেবা চালু করা। তবে একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জও বাড়ে, যা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের শীর্ষ পাঁচটি ব্যবসা‑সংবাদ দেশের বাণিজ্য, মুদ্রা, ধাতু বাজার এবং ডিজিটাল পেমেন্টের গতিপথকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করে। গমের আমদানি খাদ্য নিরাপত্তা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক, স্বর্ণের দোলন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি‑সচেতনতা বাড়ায়, ডলার বিক্রির হার মুদ্রা নীতি ও মূল্যস্তরে প্রভাব ফেলে, এবং bKash এর আয় বৃদ্ধি ডিজিটাল অর্থনীতির শক্তি প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রগুলোতে নীতি সমন্বয়, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনই মূল চালিকাশক্তি হবে।



