২০২৬ সালের প্রথম মুহূর্তে সময় অঞ্চল ভেদে নতুন বছর উদযাপন শুরু হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও আধুনিক আচার-অনুষ্ঠান দিয়ে রাতের অন্ধকারকে আলোকিত করেছে। এই বৈশ্বিক উদযাপনগুলোতে সাংস্কৃতিক রঙ, স্মরণীয় ঘটনা এবং কিছু ক্ষেত্রে দুঃখের ছায়া মিশে রয়েছে। প্যাসিফিক মহাসাগরের দূরবর্তী কিরিবাটির কিরিতিমাতি দ্বীপে প্রথমে ২০২৬ সালের সূচনা হয়েছে। একটি পর্যটক বর্ণনা করেছেন যে তিনি সমুদ্রতটে কোনো স্যাটেলাইট সংকেত, কোনো মানবিক চিহ্ন না থাকায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে এবং অসংখ্য কাঁকড়ার সঙ্গে নতুন বছর স্বাগত জানিয়েছেন। এই মুহূর্তটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার বিশেষ অবস্থানকে তুলে ধরে। কিরিবাটির পরে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে রাতের আকাশে রঙিন আতশবাজি ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের মধ্যে নতুন বছরের আনন্দময় স্বাগত জানায়। শহরের তীরবর্তী এলাকায় সংগৃহীত ভিড়ের মুখে হাসি ও উল্লাসের ছাপ স্পষ্ট ছিল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে সিডনি অপেরা হাউস এবং হারবার ব্রিজের উপরে বিশাল ফায়ারওয়ার্কসের আভা ছড়িয়ে পড়ে। আকাশে জ্বলে ওঠা রঙিন আলো সমুদ্রের পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে, যা সারা বিশ্বে সিডনির নতুন বছরের চিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সিডনিতে উদযাপন কিছুটা ম্লান হয়ে যায়, কারণ ১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচে ঘটিত হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। রাত ২৩:০০ টায় হারবারে এক মিনিটের নীরবতা বজায় রাখা হয়, যেখানে উপস্থিত মানুষদের হাতে টর্চলাইট জ্বলে, শিকারের স্মরণে। একই সঙ্গে হারবার ব্রিজের পাইলনে ইহুদি মেনোরার প্রজেকশন করা হয়, যা শান্তি ও সমবেদনার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। ফ্রান্সের লে ক্যাপ দ’আগদে, একটি নুডিস্ট বিচে, পোশাকধারী ও নগ্ন উভয় প্রকারের অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী সি ডিপে অংশ নেয়, যেখানে সমুদ্রের ঠাণ্ডা পানিতে ডুব দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। এই অনন্য রীতি স্থানীয় পর্যটন শিল্পের একটি বিশেষ আকর্ষণ। ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে আইল্যান্ডস ব্রিগে হারবার বাথের পানিতে সাঁতারুদের দল শীতল জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যা ন্যটার্সবাড নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। তীব্র শীতের মাঝেও অংশগ্রহণকারীরা উষ্ণতা ও একাত্মতার অনুভূতি ভাগ করে নেয়। নেদারল্যান্ডসের ওমেন শহরে বার্ষিক ক্যারবাইড শুটিং রীতি পালন করা হয়, যেখানে দুধের টিনকে ক্যাননে রূপান্তর করে আকাশে গুলি ছোড়া হয়। এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন বছরের আগমনের একটি রঙিন সূচক। জাপানের ওসাকায়, তরুণী নারীরা ঐতিহ্যবাহী কিমোনো পরিধান করে শিন্তো ধর্মীয় রীতিতে অংশ নেয়। তারা সুমিয়োশি তাইশা মন্দিরে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরের শেষকে চিহ্নিত করে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরতা প্রকাশ করে। পোল্যান্ডের ক্রাকোতে রঙিন দৌড়বিদরা পুরনো শহরের রাস্তায় ক্রাকো নতুন বছরের দৌড়ে অংশ নেয়। শীতের তাপমাত্রা সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বাসের সঙ্গে দৌড়ে মেতে ওঠে, যা শহরের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইন্দোনেশিয়ার বান্দার দে সেরি দেনপাসারে, বড় ও ছোট উভয় বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী নৃত্য করে ২০২৫ সালের সূর্যকে বিদায় জানিয়ে ২০২৬ সালের সূর্যকে স্বাগত জানায়। নৃত্যটি স্থানীয় সংস্কৃতির পুনর্জীবন ও নতুন বছরের আশার প্রতীক। এই বৈশ্বিক উদযাপনগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে নতুন বছরের স্বাগত: কিরিবাটি থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার ঐতিহ্যিক অনুষ্ঠান
0
20
৯৫/১০০
১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES



