পোষা প্রাণীর মালিকদের জন্য প্রযুক্তি এখন আরও কাছাকাছি হয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনটি নতুন গ্যাজেট বাজারে এসেছে, যেগুলো পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা ও যত্নে সহায়তা করে। এই গ্যাজেটগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিয়েল‑টাইম লোকেশন ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় খাবার সরবরাহের ফিচার অন্তর্ভুক্ত।
Petlibro কোম্পানি সম্প্রতি AI‑সক্ষম Scout Smart Camera চালু করেছে। এই ক্যামেরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইমে পোষা প্রাণীর চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে দেয় এবং ব্যবহারকারী ক্যামেরার দিক পরিবর্তন করতে পারেন। ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাণীকে অনুসরণ করে, ফলে ঘরের বিভিন্ন কোণ থেকে দৃশ্য দেখা যায়।
দুটি‑দিকের অডিও সাপোর্টের মাধ্যমে মালিক তার কণ্ঠে প্রাণীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আর চির্পিং সাউন্ডের সাহায্যে প্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। Scout একসাথে দুইটি পোষা প্রাণী পর্যন্ত সনাক্ত করতে সক্ষম, ফলে মালিক প্রত্যেকটি প্রাণীর আলাদা কার্যক্রম ট্র্যাক করতে পারেন।
AI বিশ্লেষণ ফিচারটি ক্যামেরাকে খাবার গ্রহণ, পানীয় গ্রহণ, লিটার বক্স ব্যবহার এবং সাধারণ হাঁটা‑চলা সনাক্ত করতে সক্ষম করে। প্রতিদিনের হাইলাইট ছবি ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হয় এবং সর্বোচ্চ ত্রিশ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। এই উন্নত ফিচারগুলো ব্যবহার করতে হলে মাসিক $12 স্ট্যান্ডার্ড সাবস্ক্রিপশন অথবা $17 প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়।
Life360 কোম্পানি নতুন GPS পেট ট্র্যাকার প্রকাশ করেছে, যা কোলারের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। এই ডিভাইস স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে পোষা প্রাণীর বর্তমান অবস্থান রিয়েল‑টাইমে দেখায়। জিওফেন্সিং ফিচার সক্রিয় থাকলে, প্রাণী নির্ধারিত নিরাপদ এলাকার বাইরে গেলে মালিককে তৎক্ষণাৎ নোটিফিকেশন পাঠায়।
ট্র্যাকারটি আশেপাশের অন্যান্য পোষা প্রাণীর মালিকদেরকে সতর্কতা পাঠানোর ব্যবস্থা রাখে, যাতে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়। এছাড়া ডিভাইসের মধ্যে একটি লাইট সংযুক্ত আছে, যা অন্ধকারে প্রাণীর অবস্থান সহজে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। রঙের বিকল্পে গোলাপি, নেভি এবং কালো উপলব্ধ।
এই ট্র্যাকারটির পূর্ণ ফাংশনালিটি ব্যবহার করতে হলে মাসিক $14.99 গold প্ল্যান অথবা $24.99 প্লাটিনাম প্ল্যানের সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়। উভয় প্ল্যানে রিয়েল‑টাইম লোকেশন, জিওফেন্সিং এবং নোটিফিকেশন সেবা অন্তর্ভুক্ত।
Petlibro আরেকটি পণ্য—Polar Wet Food Feeder—প্রস্তাব করেছে, যা বিশেষভাবে বিড়ালের ভেজা খাবার সংরক্ষণে লক্ষ্য রাখে। ফিডারটি তিনটি পৃথক কম্পার্টমেন্টে গঠিত এবং সর্বোচ্চ ২২.২ আউন্স (প্রায় ৬৫০ গ্রাম) পর্যন্ত খাবার ধারণ করতে পারে। এই ক্ষমতা মালিককে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত খাবার তাজা রাখতে সহায়তা করে, ফলে দীর্ঘ সময় ঘরে না থাকলেও বিড়ালকে সঠিক পুষ্টি সরবরাহ করা যায়।
এই গ্যাজেটগুলো পোষা প্রাণীর মালিকদের দৈনন্দিন রুটিনকে সহজ করে এবং প্রাণীর নিরাপত্তা বাড়ায়। AI‑সক্ষম ক্যামেরা মালিককে দূর থেকে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে দেয়, GPS ট্র্যাকার হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর ঝুঁকি কমায়, আর ওয়েট ফিডার খাবারের তাজা অবস্থা বজায় রাখে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তি পোষা প্রাণীর যত্নে আরও স্বয়ংক্রিয়তা ও নির্ভুলতা নিয়ে আসবে, যা প্রাণী ও মালিক উভয়ের জন্যই উপকারী হবে।



