ঢাকায় ২০২৫ সালের শেষ ব্যবসা দিবসে স্বর্ণের খুচরা দাম ২.২৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছায়, তবে মাসব্যাপী দামের ওঠানামা বাজারকে অস্থির রাখে। বাংলাদেশ গহনা সমিতির (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ কমিটি প্রধান দেহান আমিনুল ইসলাম শাহিনের মতে, গ্লোবাল স্বর্ণের দামের ওঠানামা ও বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্রয়মূল্যের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশীয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
ডিসেম্বর মাসে স্বর্ণের দাম মোট বারোবার পরিবর্তিত হয়েছে। মাসের প্রথম দিনে এক ভোরিতে দাম ২.১২ লক্ষ টাকায় শুরু হয়, আর মাসের শেষ দিনে ২.২৪ লক্ষ টাকায় সমাপ্ত হয়। ২৯ ডিসেম্বরের শেষ দামের রেকর্ড ২,২৬,৯২৩ টাকা, যা পরের দিন ২,২৪,১৮২ টাকায় নেমে আসে, অর্থাৎ প্রায় ১.২১ শতাংশের হ্রাস।
২৮ ডিসেম্বরের আগে দাম নতুন শীর্ষে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা যায়, যখন বাজুস গহনা সমিতি স্থানীয় বুলিয়ন বাজারের উচ্চ মূল্যের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপের পেছনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব রয়েছে, যা স্বর্ণের গ্লোবাল দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
শাহিন উল্লেখ করেন, গহনা ব্যবসায়ীরা দাম স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা করলেও দ্রুত পরিবর্তন হলে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় পার্থক্যের কারণে ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান দামের স্তরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য নাকের দুলের মতো ছোট গহনা কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বর্ণের ঐতিহ্যবাহী মূল্য সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান দামের উচ্চতা নতুন ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। পূর্বে স্বর্ণে বিনিয়োগ করা গ্রাহকরা এখন লাভের অবস্থায় থাকলেও, দাম কমে গেলে নতুন ক্রেতা বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না, যা গহনা শিল্পের উৎপাদন ও বিক্রয় উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম এশীয় বাজারে রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছে, যেখানে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা দামের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। এই আন্তর্জাতিক প্রবণতা বাংলাদেশে স্বর্ণের দামের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, গ্লোবাল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে থাকবে। তাই গহনা ব্যবসায়ীদের জন্য দামের পূর্বাভাস করা কঠিন, এবং গ্রাহকদের জন্য স্বর্ণ কেনার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালের শেষ দিনে স্বর্ণের দাম ২.২৪ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে, তবে মাসব্যাপী দামের ওঠানামা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশীয় খুচরা বাজারকে অনিশ্চিত রাখছে। গহনা শিল্পের ভবিষ্যৎ দামের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল, যা নীতি নির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে।



